দাদু-ঠাকুমার সংস্কারের ছোঁয়ায় ইতিহাস গড়ল গুয়াহাটির খুদে থিয়া মাত্র ২ বছর ৯ দিনের শিশু, গায়ত্রী মন্ত্র পাঠে নাম উঠল 'অসম বুক অব রেকর্ডস'-এ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
থিয়া মিত্তল তার মা ও বাবার সঙ্গে
থিয়া মিত্তল তার মা ও বাবার সঙ্গে
 
গুয়াহাটি

আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া সমাজে যখন অনেকেই মনে করেন শিশুদের কাছে পারিবারিক সংস্কার ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে, ঠিক তখনই একরত্তি থিয়া মিত্তল যেন সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করল। মাত্র ২ বছর ৯ দিন বয়সে সম্পূর্ণ গায়ত্রী মন্ত্র শুদ্ধ উচ্চারণে আবৃত্তি করে 'অসম বুক অব রেকর্ডস'-এ নিজের নাম তুলে অসম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের গর্ব হয়ে উঠেছে এই খুদে।
 
গুয়াহাটির 'ভিস্তা কিডস' প্লেহাউসের ছাত্রী থিয়া, রাধিকা মিত্তল ও অঙ্কুর মিত্তলের কন্যা। গত ৯ জুন ২০২৬, মাত্র ৮ সেকেন্ডে নির্ভুলভাবে গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করে উপস্থিত সকলকে বিস্মিত করে সে। এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ১২ জুন ২০২৬ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় 'অসম বুক অব রেকর্ডস'-এর রাজ্য রেকর্ড বিভাগে।
 
থিয়া মিত্তল
 
তবে থিয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক গভীর পারিবারিক গল্প। পরিবারের সদস্যদের মতে, তার দাদু সুরেশ মিত্তল ও ঠাকুমা সরোজ মিত্তল ছোটবেলা থেকেই নাতনির মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বীজ বপন করেছিলেন। খেলতে খেলতেই তাঁরা থিয়াকে গায়ত্রী মন্ত্র শেখাতেন। ধৈর্য, ভালোবাসা এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সেই শিক্ষা আজ এনে দিয়েছে এক অনন্য স্বীকৃতি।
 
থিয়ার মা রাধিকা মিত্তলও বিশ্বাস করেন, শিশুর প্রথম বিদ্যালয় হলো পরিবার। তিনি বলেন, "সংস্কার, নৈতিক শিক্ষা এবং আধ্যাত্মিক চেতনা যদি ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে গড়ে তোলা যায়, তবে তারা শুধু পড়াশোনায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে।"
 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সমাজে দাদা-দাদি ও বাবা-মায়ের ভূমিকা কেবল সন্তানকে বড় করে তোলা নয়; বরং তাদের মধ্যে সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থিয়ার সাফল্য সেই সামাজিক বাস্তবতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
 
আজ থিয়ার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত পরিবার, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা। মিত্তল পরিবার ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতেও থিয়া একইভাবে নতুন নতুন উচ্চতায় পৌঁছে পরিবার, সমাজ এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।
 
থিয়ার দাদু-ঠাকুমা
 
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে খুদে থিয়া যেন আমাদের মনে করিয়ে দিল, শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ, পারিবারিক সংস্কার এবং প্রজন্মের হাতে প্রজন্মের মূল্যবোধের উত্তরাধিকারই একটি শিশুর সবচেয়ে বড় শক্তি।