পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়,বিশিষ্ট সাংবাদিক বাহার উদ্দিন
শতানন্দ ভট্টাচার্য
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেষ হল তিনদিনের বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের ৩১তম কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক অধিবেশন। দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার প্রান্তিক শহর হাইলাকান্দির রবীন্দ্র ভবন ও নজরুল সদন প্রাঙ্গনে ৩০-৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিভিন্ন কার্যসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হল এই সম্মেলন। ১৯৭৭ সনে প্রতিষ্ঠিত এই সম্মেলন এবছর সোনালী জয়ন্তী বর্ষে পা দিয়েছে।
সম্মেলনের প্রকাশ্য অধিবেশনে রবীন্দ্র ভবনের ইমাদ উদ্দিন বুলবুল স্মৃতি মঞ্চে বিশিষ্টজনদের সম্মানিতও করা হয় । এদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত গল্পকার শেখর দাস-কে শক্তিপদ ব্রহ্মচারী স্মৃতি সম্মাননা, প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শিবানী ব্রহ্মচারীকে রামকুমার নন্দী স্মৃতি সম্মাননা, মনিপুরী সাহিত্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কালেন সিংহকে অনুরূপা বিশ্বাস স্মৃতি সম্মাননা, বিশিষ্ট গল্পকার ঋতা চন্দকে বিজিত কুমার ভট্টাচার্য স্মৃতি সম্মাননা এবং বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের বিশিষ্ট কথাকার ও প্রাবন্ধিক ইমাদ উদ্দিন বুলবুলকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মেলনের প্রকাশ্য অধিবেশনে বিভিন্ন প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। শ্রীভূমির সতু রায়কে সভাপতি ও ডঃ পরিতোষ চন্দ্র দত্তকে সাধারণ স্মপাদক মনোনীত করে আগামী দুবছরের জন্যে সম্মেলনের নতুন সমিতিও গঠন করা হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় তিনটি মনোজ্ঞ আলোচনাচক্র। বিষয়গুলো ছিল - "উত্তরপূর্বের বাংলা সাহিত্য : বিষয় বৈচিত্র ও ভাষাশৈলী", "বরাক উপত্যকার কথা সাহিত্যের যাত্রাপথ : ষাটের দশক থেকে বর্তমান সময়" এবং "বাঙ্গালীর জাতিসত্তা, ভাষা ও সংস্কৃতি : বিকাশ, সংকট ও সম্ভাবনা"।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, সাহিত্যিক ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতার বিশিষ্ট সাংবাদিক বাহার উদ্দিন, মেঘালয়ের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, দ্য শিলং টাইমসের সম্পাদক পদ্মশ্রী মানস চৌধুরীসহ অনেকেই।
এছাড়াও সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত ছিলেন অসমের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায়, বর্তমান বিধায়ক কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ, প্রাক্তন বিধায়ক রাহুল রায়, প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ মিশন রঞ্জন দাস, বিজেপি নেত্রী মুন স্বর্ণকার প্রমুখ।
সম্মেলনের তিনদিনই অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নজরুল সদন প্রাঙ্গনে লোকমঞ্চে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিল্পীদের দ্বারা পরিবেশিত হয় অনুষ্ঠান। চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। শেষদিন রবিবার অনুষ্ঠিত হয় শিশুমেলাও।
সম্মেলনের অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি ডঃ ইন্দিরা ভট্টাচার্য জানান যে বরাক উপত্যকার তিন জেলা কাছাড়, স্রীভূমি (করিমগঞ্জ) ও আয়োজক