এমজিএনরেগা ছিল রূপান্তরমূলক আইন, তার বিকল্পটি ত্রুটিপূর্ণ: কংগ্রেস

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
এমজিএনরেগা ছিল রূপান্তরমূলক আইন, তার বিকল্পটি ত্রুটিপূর্ণ: কংগ্রেস
এমজিএনরেগা ছিল রূপান্তরমূলক আইন, তার বিকল্পটি ত্রুটিপূর্ণ: কংগ্রেস
 
নয়াদিল্লি:
 
মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে কংগ্রেস সোমবার জানিয়েছে, এমজিএনরেগা (মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন) ছিল একটি রূপান্তরমূলক আইন, আর কেন্দ্র যে নতুন প্রকল্প এনে এটিকে “বুলডোজ করে সরিয়ে দিয়েছে”, তা আসলে একটি ত্রুটি।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ বলেন, ঠিক ২০ বছর আগে আজই অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার বাদনাপল্লি গ্রামে এমজিএনরেগা চালু হয়েছিল।

রমেশ এক্স-এ লেখেন,“এই আইন গত কয়েক বছরে গ্রামীণ পরিবারগুলিকে (বিশেষ করে মহিলাদের) প্রায় ১৮০ কোটি কর্মদিবসের কাজ দিয়েছে, আনুমানিক ১০ কোটি কমিউনিটি সম্পদ তৈরি করেছে, দুর্দশাজনিত পরিযান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে ক্ষমতাবান করেছে এবং গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের মজুরি নিয়ে দরকষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমেই প্রথম সরাসরি উপভোক্তা স্থানান্তর (ডিবিটি) ব্যবস্থা চালু হয়, যার ফলে মজুরি সরাসরি ব্যাংক ও ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত।কংগ্রেস নেতা আরও জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা নিজেদের জমিতে কুয়ো খননের মতো সেচ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।

রমেশ জোর দিয়ে বলেন, এমজিএনরেগা ছিল চাহিদাভিত্তিক আইনি নিশ্চয়তা, কেবল একটি প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি নয়।
 
“এটি সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে উদ্ভূত একটি অধিকার ছিল। নাগরিকরা কাজ চাইলে তা বরাদ্দ করা হতো এবং গ্রামীণ ভারতের যে কোনও জায়গায় কাজ পাওয়া যেত। প্রকল্পগুলি নির্ধারণ করত স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এবং রাজ্য সরকারকে মোট ব্যয়ের মাত্র ১০ শতাংশ বহন করতে হতো, ফলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই কাজ দেওয়ার জন্য তারা উৎসাহিত হতো,” তিনি বলেন।

তিনি জানান, গ্রামসভার মাধ্যমে সামাজিক নিরীক্ষা এবং ক্যাগ (CAG)-এর মাধ্যমে উচ্চস্তরের নিরীক্ষা নিয়মিতভাবে করা হতো।

রমেশের দাবি, মোদী সরকারের নতুন আইন কেবল দিল্লিতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করে।তিনি বলেন, এখন নির্দিষ্ট কিছু জেলায় কেন্দ্রের পক্ষ থেকেই কাজের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

“এখন নাগরিকদের চাহিদার ভিত্তিতে নয়, বরং সরকারের বরাদ্দ বাজেট অনুযায়ী কাজ দেওয়া হবে। প্রতি বছর কৃষিকাজের ব্যস্ত সময়ে দুই মাস পুরো প্রকল্প বন্ধ থাকবে—যা শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দরকষাকষির ক্ষমতার উপর বড় আঘাত,” রমেশ বলেন।

তিনি আরও বলেন, পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং প্রকল্পগুলি এখন মোদী সরকার তার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে।

রমেশের মতে, নতুন ব্যবস্থায় রাজ্যগুলিকে এখন মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশ বহন করতে হবে। আর্থিক চাপে থাকা রাজ্যগুলির পক্ষে তা সম্ভব না হওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত কাজ দেওয়াই বন্ধ করে দেবে।

“এমজিএনরেগা ছিল একটি রূপান্তরমূলক আইন। মোদী সরকারের নতুন প্রকল্প, যা এটিকে সরিয়ে দিয়েছে, তা একটি ত্রুটি,” তিনি বলেন।

রমেশ ২০ বছর আগের একটি ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে বাদনাপল্লির দলিত মহিলা চীমালা পেদাক্কা এমজিএনরেগার প্রথম জব কার্ডধারী হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের বিকসিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫ (VB-G RAM G) বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই সংসদের দুই কক্ষে পাশ হয় এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়। এর মাধ্যমে দুই দশক পর এমজিএনরেগার পরিবর্তে নতুন আইন কার্যকর হয়।

নতুন আইনে কাগজে-কলমে গ্রামীণ পরিবার পিছু কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থায়নের ধরণ, পরিকল্পনা পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন কাঠামোতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে বিরোধী দলগুলির দাবি, নতুন আইন এমজিএনরেগার অধিকারভিত্তিক চরিত্রকে দুর্বল করেছে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়িয়েছে এবং রাজ্যগুলির উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়েছে—যার ফলে কাজ পাওয়ার আইনি অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।