নয়াদিল্লি:
অ্যাসিড হামলার ঘটনাগুলি নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে একাধিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বছরভিত্তিক অ্যাসিড হামলার মামলার সংখ্যা, সেগুলির আদালতে বর্তমান অবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের জন্য গৃহীত ব্যবস্থার বিবরণ।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি আর মহাদেবন ও জয়মাল্য বাগচি-সহ গঠিত বেঞ্চ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে জানাতে বলেছে, কতটি মামলায় বিচারাধীন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
এছাড়াও বিচারাধীন আদালত স্তরে কতগুলি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কতগুলি এখনও বিচারাধীন, সে সম্পর্কেও তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
চার সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্ত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়ে বেঞ্চ জানিয়েছে, অ্যাসিড হামলার মামলাগুলিতে উচ্চ আদালত-সহ আপিল আদালতে কতগুলি আপিল দায়ের হয়েছে, তার বিবরণও দিতে হবে।বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি ভুক্তভোগীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ—তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থান, বৈবাহিক অবস্থা, গৃহীত চিকিৎসা পরিষেবা এবং ইতিমধ্যে হওয়া বা ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ—সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, এই ধরনের ভুক্তভোগীদের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির পুনর্বাসন প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণও দিতে বলা হয়েছে।
যে সমস্ত ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক অ্যাসিড পান করানো হয়েছে, সেই মামলাগুলির বিস্তারিত তথ্যও জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রধান বিচারপতি কেন্দ্র সরকারকে অ্যাসিড হামলার অপরাধে দোষীদের জন্য “ব্যতিক্রমী” শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
এই মামলাটি শুনানি হচ্ছিল শাহিন মালিকের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে। শাহিন মালিক নিজেও একজন অ্যাসিড হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগী।মালিক তাঁর আবেদনে আইনে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’-র সংজ্ঞা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে জোরপূর্বক অ্যাসিড পান করানোর ফলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রাণঘাতী ক্ষতির শিকার ভুক্তভোগীরা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সহায়তা—সহ চিকিৎসা পরিষেবা—পেতে পারেন।