শিলং:
মেঘালয়ে বাইক র্যালিকে কেন্দ্র করে হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (KSU) তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে শিলংয়ের একটি হোটেল থেকে সংগঠনের সভাপতি রেমন্ড খারজানা, সহ-সভাপতি পিনকেমলাং সানমিয়েত এবং সাধারণ সম্পাদক রুবেন নজিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, বুধবার KSU আয়োজিত বাইক র্যালির সময় শিলংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। অন্তত ৩১টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় কয়েকজন আক্রান্ত হয়ে আহতও হয়েছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কলোনিতে স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিও ভাঙচুর করা হয়েছে।
ইস্ট খাসি হিলসের পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম জানান, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, হামলা এবং অন্যান্য অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তবে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে KSU নেতৃত্ব দাবি করেছিলেন, র্যালিতে সংগঠনের সদস্যরা ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগে জড়িত নন। তাঁদের অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে র্যালিতে ঢুকে পরিস্থিতি অশান্ত করেছেন, যাতে সংগঠনের দাবিগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে।
KSU-র পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অভিবাসী শ্রমিক নিয়ন্ত্রণে আইন কার্যকর করা, সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কার, মেঘালয় রেসিডেন্টস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাস্তবায়ন এবং উত্তর-পূর্ব ইন্দিরা গান্ধী আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান।
এছাড়াও পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলসে প্রস্তাবিত সিমেন্ট কারখানার গণশুনানি বাতিল এবং মেঘালয়ে ইনার লাইন পারমিট (ILP) চালুর দীর্ঘদিনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত ৪ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমার কাছে দাবিপত্র জমা দিয়ে সরকারকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছিল KSU। তার পরেই এই বাইক র্যালি ও হিংসার ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।