সুন্দরবনের সুজাউদ্দিন ও নাসরুলের অনন্য দেশভক্তি! সাইকেল চেপে 'জাতীয় সম্মান' বাঁচাতে মাঠে নামতেই ‘হুঁশ’ ফিরছে অনেকেরই
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় নীরবে স্বাধীনতা দিবস কাটতেই মাঠে নামলেন সুজাউদ্দিন লস্কর ও নাসরুল মোল্লা। সুন্দরবনের দুই তরুণের অনন্য 'দেশসেবা' দেখে তাঁদের কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটদুনিয়া। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শেষ হতেই অনেকেরই অসাবধানতায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায় একই ঘটনা। জাতীয় পতাকার প্রতীকী, ছোট্ট কাগজের পতাকা ও জাতীয় পতাকার ছবি আঁকা স্মারকগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে রাস্তার যত্রতত্র জায়গায়। যে জাতীয় পতাকাকে বুকে জড়িয়ে সম্মান জানাতে ১৫ই আগষ্ট তৈরি থেকে গোটা দেশ, ১৬ তারিখে দেখা যায় নানা জায়গায় পতাকার অমর্যাদা। কাগজের ত্রিরঙ্গা পতাকাগুলো ছিটকে পড়ে থাকে রাস্তার ধুলোয়, ড্রেনে কিংবা পথচারীদের অগোচরে পায়ের নিচে। যা দেখে সহ্য করতে পারেননি সুন্দরবনের দুই যুবক সুজাউদ্দিন লস্কর ও নাসরুল মোল্লা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর ভাঙনখালি থেকে সাইকেলে চেপে এক অন্য ধরনের অভিযানে নেমে পড়তে দেখা যায় এই 'ইয়ং ব্রিগেড'-কে। সমাজকে দেশপ্রেমের বার্তা দিয়ে ধুলোবালিতে অযত্নে পড়ে থাকা ছোট-বড় জাতীয় পতাকাগুলো হাত দিয়ে তুলে নিয়ে সংরক্ষিত জায়গায় রাখার কাজ শুরু করেন তাঁরা। পথচলতি মানুষ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সবাই যেন অবাক চোখে দেখলেন দুই যুবকের কর্মকাণ্ড। তাঁরাও উপলব্ধি করলেন, নাগরিকদের অসাবধানতায় জাতীয় পতাকার মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। এই যুবকদের উদ্যোগকে তাঁরা সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষেরই জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো উচিত। এতে করে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করতে বেরিয়ে সুজাউদ্দিন লস্কর জানালেন, ১৫ই আগস্ট এলেই প্রতি বছর আমরা ঘটা করে স্বাধীনতা দিবস পালন করি ঠিকই, কিন্তু অসাবধানতাবশত এই পতাকা বাইক-সাইকেলের চাকায় পিষ্ট হয়, ড্রেনে পড়ে থাকে। এতে করে জাতীয় পতাকার অবমাননা হয়। এই অবমাননা রোধ করতেই আমাদের এই ছোট্ট পদক্ষেপ। তবে আমাদের এই উদ্যোগ দেখে সকলেই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। দুই যুবকের এই উদ্যোগ দেখে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার এক প্রবীণ নাগরিক আবেগপ্লুত হয়ে বলেই বসলেন, আমরা অনেকেই হয়ত কোন বিশেষ দিনে একদিন পতাকা তুলে দায়িত্ব শেষ মনে করি। কিন্তু এই ছেলেরা যে কাজ করল তা আমাদের চোখ খুলে দিল। সত্যিকারের দেশপ্রেম কাকে বলে, তা ওদের দেখেই শেখা উচিত। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের।
সুজাউদ্দিন ও নাসরুল সচেতনতার অভিযান
গিয়াসউদ্দিনের সুরে সুর মিলিয়ে নাসরুল মোল্লা বললেন, ঘটা করে অনেকেই স্বাধীনতা দিবস পালন করেন কিন্তু দিন ফুরোতেই জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করেন না অনেকেই। সেই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই অভিযান। প্রশাসনিক স্তরে কথা বলার পাশাপাশি অলি-গলি রাস্তার মোড়ে মোড়ে সুজাউদ্দিন ও নাসরুল সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরা বোঝালেন, দেশপ্রেম কোনো একদিনের উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জাতীয় পতাকার সম্মান প্রতি মুহূর্তে রক্ষা করাই আসল নাগরিক কর্তব্য। দুই যুবকের এই সাইকেল যাত্রা গোটা সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত তুলে ধরল।