নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুন: ‘ধোঁয়া দেখেই ছাদে উঠে পড়ি’, বেঁচে যাওয়া তিন বাংলাদেশির চোখে আতঙ্ক, মৃতের সংখ্যা ৯
কলকাতাঃ
কলকাতার কেন্দ্রস্থলে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার বছরের শিশু ও দুই মহিলা-সহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আরও ৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ভোর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আগুন লাগে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বহু হোটেল থাকা ঘিঞ্জি ওই ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ঘন ধোঁয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। দমকল, কলকাতা পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, মৃতদের অধিকাংশের শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবনটির বহু ঘরে জানলা ছিল না বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাত ২টা ৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর মাত্র এক মিনিটের মধ্যে, ২টা ৮ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু করে দমকল। ভবনের প্রতিটি তলায় চার-পাঁচটি করে হোটেল ছিল এবং ঘরগুলি অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে ফরেন্সিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি মানা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দমকলমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভবনটিতে একাধিক অনিয়ম ছিল এবং কীভাবে এমন হোটেলগুলিকে বাণিজ্যিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা নিরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে।
এদিকে, ভবনের মালিক ঘটনার পর থেকে পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিউ মার্কেট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং মালিকের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর মাত্র কয়েকদিন আগেই বীরভূমের তারাপীঠে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরপর দুই অগ্নিকাণ্ডে রাজ্যের হোটেল ও পুরনো ভবনগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন উঠেছে।