কলকাতা
উপাচার্য ও কর্মীদের উপর হামলা, ক্যাম্পাসে ভাঙচুর এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ছয় পড়ুয়াকে বহিষ্কার করল কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানের এক আধিকারিক এই খবর জানিয়েছেন। এদিকে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন শুক্রবার ১৮ দিনে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানের এক পদস্থ আধিকারিকের দাবি, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও চলচ্চিত্র নির্মাণ-সহ বিভিন্ন বিভাগের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সিদ্ধান্তে ছয় পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপাচার্যের দফতরে ভাঙচুর, তাঁকে মারধর এবং ক্যাম্পাসের দেওয়ালে অশ্লীল গ্রাফিতি লেখার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পড়ুয়াদের সংগঠন। এসআরএফটিআই ছাত্র সংসদের মুখপাত্র সুদীপ চক্রবর্তী দাবি করেন, “আমাদের মধ্যে পাঁচজনকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কারের ইমেল পাঠানো হয়েছে। আমরা আইনি পদক্ষেপ করছি।”
এদিকে, ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো নিয়ে পূর্ববর্তী চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ছাত্র সংসদ। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ভয় দেখাতে পুলিশ ডাকার অভিযোগও তুলেছে তারা।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ছাত্র সংসদ জানায়, চলতি আন্দোলনের ১৭তম দিনে পড়ুয়ারা জানতে পারেন, ছাত্র সংসদকে আগাম না জানিয়েই প্রশাসনিক ভবনের প্রথম তলায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
পড়ুয়াদের দাবি, ২০২৪ সালে টানা ১৬ দিনের আন্দোলনের পর একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর আগে ছাত্র সংসদকে জানাতে হবে এবং ক্যামেরা বসানোর স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাদের মতামত নিতে হবে। পাশাপাশি, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের একটি বৈঠকে উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে সিসিটিভি বসানোর অন্তত তিন দিন আগে ছাত্র সংসদকে জানানো হবে।
ছাত্র সংসদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “SRFTI ছাত্র সংসদকে এ বিষয়ে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি।”
এর প্রতিবাদে পড়ুয়ারা প্রশাসনিক ভবনের প্রথম তলায় অবস্থান শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, এটি ছিল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রকাশ এবং প্রশাসনকে পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
পড়ুয়াদের দাবি, এরপর উপাচার্য জানান, তাঁর দফতরে পাথর ছোড়ার ঘটনায় একটি জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার পর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দফতরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও জল সরবরাহের পাইপ কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ছাত্র সংসদ।
তবে এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে ঘটনায় পড়ুয়াদের কোনও যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, অবস্থান, মিছিল, বিক্ষোভ, শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ এবং স্লোগান দেওয়ার মতো কর্মসূচির মধ্যেই আন্দোলন সীমাবদ্ধ রয়েছে। কোনও হিংসাত্মক কার্যকলাপে তারা জড়িত নয়।
ছাত্র সংসদের আরও অভিযোগ, উপাচার্য ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকেছিলেন এবং ছাত্র সংসদের সভাপতি ও ফিল্ম বিভাগের সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক পুলিশকে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তাকর্মীরা এ ধরনের কোনও ঘটনা দেখেননি বা প্রত্যক্ষ করেননি বলে দাবি পড়ুয়াদের।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ভয় দেখাতে পুলিশকে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগের দাবি ফের জানিয়েছে ছাত্র সংসদ।
উল্লেখ্য, উপাচার্য ও কর্মীদের উপর হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ছাত্র সংসদের পাল্টা দাবির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।