নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে মা কাত্যায়নীর চরণে প্রার্থনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে মা কাত্যায়নীর চরণে প্রার্থনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির
নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে মা কাত্যায়নীর চরণে প্রার্থনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির
 
নয়াদিল্লি

শারদীয় নবরাত্রির পবিত্র ষষ্ঠী তিথি উপলক্ষে শুক্রবার দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই উপলক্ষে মা কাত্যায়নীর চরণে প্রণাম জানিয়ে তিনি সকলের জীবন শক্তি, সাহস ও ইতিবাচক চিন্তায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার কামনা করেছেন।
 
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নবরাত্রির পবিত্র ষষ্ঠ দিনে মা কাত্যায়নীর শ্রীচরণে শতকোটি প্রণাম জানাই। দেবীর কৃপায় সকলের জীবন অফুরন্ত শক্তি, সাহস ও ইতিবাচক শক্তিতে ভরে উঠুক, এটাই আমার আন্তরিক কামনা।”
উল্লেখ্য, নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনটি মা কাত্যায়নীর পূজা-অর্চনার জন্য উৎসর্গীকৃত। মা দুর্গার নয়টি রূপের অন্যতম মা কাত্যায়নীকে শক্তি, সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।
 
হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তি থেকে মা কাত্যায়নীর আবির্ভাব হয়েছিল। মহিষাসুর নামক অসুরকে বধ করার জন্য দেবী ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামেও পরিচিত। মা দুর্গার অন্যতম উগ্র ও শক্তিশালী রূপ হিসেবে পরিচিত মা কাত্যায়নীর চারটি হাত রয়েছে এবং তাঁর বাহন সিংহ।
 
সংস্কৃত ভাষায় ‘নবরাত্রি’ শব্দের অর্থ ‘নয় রাত’। এই পবিত্র উৎসব মা দুর্গা ও তাঁর নয়টি রূপ অর্থাৎ নবদুর্গার আরাধনার জন্য উৎসর্গীকৃত। সমগ্র দেশজুড়ে গভীর ভক্তি, বিশ্বাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে নবরাত্রি উদযাপন করা হয়।
 
নয় দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রতিটি দিনে ভক্তরা মা দুর্গার একটি বিশেষ রূপের পূজা-অর্চনা করে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
 
নবরাত্রি চলাকালীন ভক্তরা প্রচলিত রীতি অনুসারে উপবাস পালন করেন, দেবীর উদ্দেশ্যে মন্ত্র ও শ্লোক পাঠ করেন, নতুন পোশাক পরেন এবং দেবীর চরণে ভোগ নিবেদন করেন। পাশাপাশি, বাড়িঘর পরিষ্কার করে পবিত্র ও ভক্তিময় পরিবেশ গড়ে তোলেন।
 
হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, বছরে চারবার নবরাত্রি পালন করা হয়। তবে এর মধ্যে চৈত্র নবরাত্রি ও শারদীয় নবরাত্রি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে পালিত এই দুই উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব যথেষ্ট।
 
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নানা রীতি ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে নবরাত্রি উদযাপন করা হয়। বিশেষ করে উত্তর ভারতের উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার ও মধ্যপ্রদেশে এই উৎসব উপলক্ষে রামায়ণের বিভিন্ন ঘটনা ও কাহিনির ভিত্তিতে ‘রামলীলা’র আয়োজন করা হয়।
 
নয় দিনব্যাপী নবরাত্রি উৎসবের সমাপ্তি ঘটে বিজয়াদশমীর দিনে। এই দিন রাবণের কুশপুতুল দহন করে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়ের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সত্য, ন্যায় ও ধর্মের জয়ের পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মঙ্গলের প্রতীক হিসেবেও বিজয়াদশমীর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।


শেহতীয়া খবৰ