ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে ফের জাতীয় রাজনীতিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের একাংশের প্রতিবেদনে দাবি, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অধিবেশন সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় লোকসভার আসনসংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার কথা আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ আইন, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে।
সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সাধারণ নিয়মে, সংশ্লিষ্ট কক্ষে মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পেতে হয়। ফলে শুধু শাসক জোটের সাংসদসংখ্যা নয়, ভোটের দিন বিরোধী ও অন্যান্য দলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণকে সামনে এনে সরকার রাজনৈতিক বিতর্কের অভিমুখ বদলাতে চাইছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। তবে বিশেষ অধিবেশনের দিনক্ষণ, বিলের চূড়ান্ত রূপরেখা এবং সংসদে দলগুলির অবস্থান স্পষ্ট হলেই পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝা যাবে।