নয়াদিল্লি:
নকশালবাদের অবসান ঘটলেই পাঁচ দশকের যন্ত্রণা মুছে যাবে না। হিংসার শিকার মানুষদের জীবন ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াও সরকারের দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে নকশাল-প্রভাবিত মানুষের পুনর্বাসন এবং উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ছত্তিশগড়ের নকশাল-প্রভাবিত মানুষের জন্য সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, দীর্ঘ পাঁচ দশকে বিশেষ করে দরিদ্র আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে যে দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, তা দূর করতে হবে। ছত্তিশগড়ে প্রাথমিক পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ৫ থেকে ৭ অক্টোবর জগদলপুরে আয়োজিত বিশেষ শিবিরে ৩,৬০০-রও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১,৫৭০ জন বস্তারের বাসিন্দা। নকশাল-হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের কৃত্রিম অঙ্গ, হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল, শ্রবণযন্ত্র ও হাঁটার লাঠির মতো সহায়ক সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে।
শাহের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮,৫২৬ জন নকশাল আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রায় ৭,৫০০ জনকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং ১,৬২৫ জন পুরস্কারের অর্থ পেয়েছেন। পাশাপাশি ৭,৮৮২ জনকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, ৪৫৫ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে এবং ১২৯ জনকে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিরাপত্তা শিবিরগুলিকে ভবিষ্যতে পরিষেবা কেন্দ্র ও সামাজিক পরিকাঠামোয় রূপান্তরিত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করবেন সরকারি আধিকারিকরা।
বস্তার অলিম্পিক, বস্তার পাণ্ডুম এবং ‘নিয়দ নেল্লানার’ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে আদিবাসী সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন, প্রত্যন্ত এলাকায় পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। যে এলাকায় একসময় গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের আতঙ্ক ছিল, সেখানে বস্তার অলিম্পিক মানুষকে খেলাধুলার মাধ্যমে একত্রিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বস্তারকে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে নকশালবাদের অবশিষ্ট প্রভাবও নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।