উজান অসমে ভয়াবহ বন্যা, সেনা ও বায়ুসেনা নামল ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে; মৃত বেড়ে ৬, ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭ হাজারের বেশি
গুয়াহাটি:
উজান অসমে ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। টানা ভারী বৃষ্টিতে শিবসাগর, চরাইদেও, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, যোরহাট, তিনসুকিয়া ও উদালগুড়ি জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। বন্যাজনিত কারণে শিবসাগরে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬। রাজ্যজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫৭ হাজার ছাড়িয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উজান অসমে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনাকে মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, রাজ্য প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, শিবসাগর, চরাইদেও ও যোরহাট জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। তিনি চার মন্ত্রী—অজন্তা নেওগ, বিমল বরাহ, কেশব মহন্ত এবং সুশান্ত বরগোহাঁইকে বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। মানুষের জীবন রক্ষা এবং দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।"
অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, চরাইদেও জেলায় প্রায় ২৪ হাজার, ধেমাজিতে ২২ হাজার এবং ডিব্রুগড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। বর্তমানে চারটি জেলায় ১৪টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে, যেখানে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ) ইতিমধ্যেই চরাইদেও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুর্গতদের মধ্যে চাল, ডাল, লবণ ও সর্ষের তেলসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
রাজ্যের ২৯৮টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন। প্রায় ৩,৮৭৫ হেক্টর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে। বহু বাঁধ, রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডিব্রুগড় জেলার খোয়াং এলাকার চেনিমারিতে বুড়িডিহিং নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া বন্যার জেরে ৩৭ হাজারেরও বেশি গবাদি পশু ও পোলট্রি প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।