বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার প্রার্থী সুষ্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 10 h ago
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার প্রার্থী সুষ্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার প্রার্থী সুষ্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক
 
কলকাতা:

 তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুষ্মিতা দেব,সুখেন্দুশেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইক। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি তাঁদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৪ জুলাইয়ের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।গত মাসে তৃণমূল এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তিনটি আসনে উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেই আসনগুলিতেই বিজেপি এই তিন নেতাকে প্রার্থী করেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন তিন নেতা। তখনই তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী করা হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "জল্পনা চলতে দিন।" কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে।

বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছিল, তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের জন্য দলের দরজা কার্যত বন্ধ। তবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এই তিনজনের ক্ষেত্রে দল 'ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত' নিয়েছে।

তাঁর কথায়,"আমরা বলেছিলাম তৃণমূলের দরজা আমাদের কাছে বন্ধ। সেই অবস্থানেই আমরা রয়েছি। কিন্তু যাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত নন, মানুষের অধিকার কেড়ে নেননি বা চাকরি বিক্রির মতো অভিযোগে অভিযুক্ত নন, তাঁদের আমরা স্বাগত জানাই।"তিনি আরও বলেন, অতীতে তৃণমূলে থাকলেও যাঁদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ, তাঁদের বিজেপি সবসময়ই গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

২০১২ সাল থেকে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ডের সময় নিজের দলের বিরুদ্ধেই জবাবদিহির দাবি তুলে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন।বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন,"আমি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। রাজনীতিতে আমার ৫৯ বছরের অভিজ্ঞতা। আরজি কর ঘটনার সময় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলাম। এরপর আমার ও আমার পরিবারের উপর ব্যাপক চাপ ও হুমকি আসে। তখনই বুঝেছিলাম, তৃণমূলে থেকে আর ভবিষ্যৎ নেই।"প্রাক্তন কংগ্রেস নেত্রী এবং তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুষ্মিতা দেবও তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, "তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর বুঝেছি দুর্নীতির পরিমাণ কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আমার সমালোচক অনেক কিছু বলতে পারেন, কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না যে আমি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।"তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,"ওঁর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, তাঁকে আর কোনও দল নিতে চায় না।"

আসামে থাকলেও কেন কলকাতায় এসে বিজেপিতে যোগ দিলেন, তার জবাবে সুষ্মিতা দেব বলেন, দলের নির্দেশেই তিনি কলকাতায় এসেছেন। তিনি জানান, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁকে বলেছেন, "বাংলার মানুষ আপনাকে দু'বার রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন, তাই তাঁদের প্রতি সম্মান জানানো উচিত।"
উত্তরবঙ্গের চা-বাগান অঞ্চলে সংগঠন গড়ে তোলার জন্য পরিচিত প্রকাশ চিক বরাইক ২০২৩ সালে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন। এবার তিনিও বিজেপির টিকিটে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার দৌড়ে।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁরা দল ছাড়েননি। নির্বাচনের পরেই দল ছেড়েছেন। সবকিছু মানুষ দেখছেন।"বিধানসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাজনৈতিক মহলের মতে, ২৪ জুলাইয়ের উপনির্বাচনে সুষ্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইকের জয় কার্যত নিশ্চিত। ফলে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁদের ফের রাজ্যসভায় প্রত্যাবর্তনের পথ প্রায় সুগম হয়ে গেল।



শেহতীয়া খবৰ