স্বামী বিবেকানন্দের মহাপ্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রধানমন্ত্রীর, 'তাঁর আদর্শই উন্নত ভারতের প্রেরণা'
নয়াদিল্লি
ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং জাতীয় চেতনার বিশ্বব্যাপী পরিচিতি গড়ে তুলতে স্বামী বিবেকানন্দের অবদান অনন্য, তাঁর মহাপ্রয়াণ দিবসে এমনই শ্রদ্ধাবার্তা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) হিন্দিতে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বামীজির প্রজ্ঞা, চিন্তাধারা এবং আধ্যাত্মিক বাণী আজও কোটি কোটি তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় লেখেন, "স্বামী বিবেকানন্দজির নির্বাণ দিবসে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম। ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং জাতীয় চেতনাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অতুলনীয়।"
তিনি আরও বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং জীবনদর্শন আজও দেশের যুবসমাজের পথপ্রদর্শক। তাঁর আধ্যাত্মিক বার্তা আগামী দিনেও একটি উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নে দেশবাসীকে নতুন শক্তি ও সঠিক দিশা দেখাবে।
উল্লেখ্য, স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি কলকাতায়। তাঁর আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি ছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য এবং পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি মহাসমাধি লাভ করেন।
১৮৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ ভারতীয় দর্শন, মানবতাবাদ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। সেই ভাষণের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন এবং সমাজসেবা ও মানবকল্যাণকে সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
স্বামী বিবেকানন্দের মহাপ্রয়াণ দিবসে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রম ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তাঁর জীবনদর্শন ও আদর্শ আজও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যুবশক্তি এবং জাতীয় পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।