ত্রিপুরা-অসমের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত, আগরতলা-করিমগঞ্জ মেমু ট্রেনের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 7 h ago
ত্রিপুরা-অসমের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত, আগরতলা-করিমগঞ্জ মেমু ট্রেনের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর
ত্রিপুরা-অসমের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত, আগরতলা-করিমগঞ্জ মেমু ট্রেনের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর
 
আগরতলা

ত্রিপুরা ও অসমের মধ্যে রেল যোগাযোগকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে চালু হল বহু প্রতীক্ষিত আগরতলা-করিমগঞ্জ-আগরতলা মেমু (MEMU) ট্রেন পরিষেবা। শনিবার আগরতলা রেলস্টেশন থেকে এই নতুন দৈনিক ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা। নতুন এই পরিষেবা চালু হওয়ায় দুই রাজ্যের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক বিশাল কুমার-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
 
রাজ্য সরকারের মতে, নতুন এই দৈনিক মেমু ট্রেন পরিষেবার ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং প্রতিদিন আগরতলা ও করিমগঞ্জের মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত রেল যোগাযোগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন দুই রাজ্যের বাসিন্দারা। সেই প্রেক্ষিতে এই পরিষেবা চালু হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 
এদিকে, রেল পরিষেবার উদ্বোধনের পাশাপাশি ত্রিপুরার সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও সক্রিয় রাজ্য সরকার। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি-র সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা। বৈঠকে চলমান জাতীয় সড়ক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, ভবিষ্যতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃরাজ্য সংযোগ আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
 
বৈঠকের শুরুতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে ত্রিপুরায় জাতীয় সড়কের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ১৯৮ কিলোমিটার। বর্তমানে তা বেড়ে ৯২৩ কিলোমিটারে পৌঁছেছে, যা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
 
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে জাতীয় সড়ক-৮ (NH-08)-এর চুরাইবাড়ি থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রক নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
 
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন গ্রিনফিল্ড চার লেনের জাতীয় সড়কটি রেলপথের সমান্তরালে নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে আঠারামুড়া ও লংথরাই পাহাড়শ্রেণির মধ্য দিয়ে আধুনিক সুড়ঙ্গ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই এই প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
 
এছাড়া বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সমস্যা মোকাবিলায় জাতীয় সড়কের পাশে পর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধী দেওয়াল নির্মাণের বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
রেল ও সড়ক, দুই ক্ষেত্রেই একযোগে পরিকাঠামো উন্নয়নের এই উদ্যোগ ত্রিপুরার অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


শেহতীয়া খবৰ