Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 8 h ago
ইসলামপুরের সংখ্যালঘু মহিলারা
তরুণ নন্দী / কলকাতা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতেই উচ্ছ্বাসে মেতে গেলেন ইসলামপুরের সংখ্যালঘু মহিলারা। আনন্দে বলেই ফেললেন, এই খুশিতে মুখ্যমন্ত্রীকে মিষ্টিমুখ করাতে পারলে আরও ভালো লাগত। সংসারের অভাব-অনটনের মাঝে হাতে আসা এই ৩০০০ টাকা যেন এই মানুষগুলোর কাছে বাড়তি অক্সিজেন। বলা ভালো, নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি মত মাসের প্রথমেই এতগুলো টাকা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভদ্রকালী এলাকার জাগীর বস্তির সংখ্যালঘু মহিলারা।
রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে তাঁরা এতটাই খুশি যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে দলবেঁধে রাস্তায় নেমে এলেন মহিলা-পুরুষ সকলেই। একরাশ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই সংখ্যালঘু মহিলারা বলেই ফেললেন, ক্ষমতা থাকলে তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে তাঁকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আসতেন।
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জাগীর বস্তি এলাকায় এখন যেন উৎসবের পরিবেশ। হাতে ৩০০০ টাকা নিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের প্রান্তিক মহিলারা একত্রিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বোঝালেন তাঁদের আনন্দের অনুভুতির কথাগুলো। এক মহিলা জানালেন, বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের যা দাম তাতে এই আর্থিক সাহায্য তাঁদের সংসারের বিভিন্ন ছোট-বড় প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে। তাছাড়া দৈনন্দিন টানাপোড়েন সামাল দিতে সরকারী এই ভাতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এলাকার মানুষেরা কোনরকম সংকোচ না করেই বলে দিলেন, সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগকে সাধারণ ও গরিব মানুষের পাশে থাকার একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
হাতে কড়কড়ে ৩০০০ টাকা দেখিয়ে এক উপভোক্তা বলেই দিলেন, আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি যে আমাদের অ্যাকাউন্টে এভাবে ৩০০০ টাকা করে ঢুকে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন। আমরা এই টাকা পেয়েছি। তাই আমরা সব সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছি। তবে যদি কোনোদিন সামনাসামনি হতে পারি তাহলে নিজের হাতে ওনাকে মিষ্টিমুখ করাব।
ইসলামপুরের সংখ্যালঘু মহিলারা
এদিন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের পাশাপাশি এলাকার সমাজসেবী আব্দুল রাজ্জাক ও অন্যান্যদের প্রতিও মন থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপস্থিত মহিলারা। তাঁদের মতে, সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো একদম প্রান্তিক স্তরের মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে স্থানীয় সমাজসেবীদের অবদানও অনস্বীকার্য।
সংখ্যালঘু ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই গরিব মহিলাদের উচ্ছ্বাসকে কেন্দ্র করে যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় গোটা ভদ্রকালী এলাকায়। ৩০০০ টাকা হয়ত অনেকেরই কাছে নগণ্য, কিন্তু জাগীর বস্তির এই পরিশ্রমী মায়েদের কাছে তা সংসার চালতে এক বিরাট সম্বল। ঘরের লক্ষ্মীদের মুখে এই চওড়া হাসি আর বাঁধভাঙা আনন্দই প্রমাণ করে দিল, সঠিক সময়ে সঠিক সরকারি সাহায্য কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে নতুন আশায় ভরিয়ে তুলতে পারে।