ড্রোন উড়তেই ভেস্তে গেল মানবপাচারের ছক, ইসলামপুরে উদ্ধার ১৭ কিশোরী, গ্রেপ্তার ৪

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 10 h ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
কলকাতা

অন্ধকারের আড়ালে চলছিল মানবপাচারের ছক। গন্তব্য ছিল উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের চম্পাবাগ এলাকার নিষিদ্ধপল্লি। কিন্তু পাচারকারীদের সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান। প্রথমবার ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালিয়ে একসঙ্গে ১৭ জন কিশোরীকে উদ্ধার করল ইসলামপুর পুলিশ জেলা। একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজন অভিযুক্তকে। পুলিশের দাবি, মানবপাচার রোধে এই অভিযান জেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে যে বিহার, অসম ও গুজরাট থেকে আনা একাধিক নাবালিকাকে চম্পাবাগ এলাকার নিষিদ্ধপল্লিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই বিশেষ অভিযান শুরু করে ইসলামপুর পুলিশ জেলা। গোটা এলাকায় নজরদারির জন্য প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ড্রোন। আকাশপথে নজরদারি শুরু হতেই অভিযুক্তদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও আগে থেকেই কৌশলগতভাবে মোতায়েন থাকা পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থল থেকেই চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
 
অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয় ১৭ জন কিশোরীকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁদের বাড়ি বিহার, অসম এবং গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায়। কীভাবে তাঁদের সেখানে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে আরও বড় কোনও মানবপাচার চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
 
ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাকেশ সিং বলেন, এটি পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তদন্তে একটি বড় মানবপাচার চক্রের যোগসূত্র মিলেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধৃতদের শনিবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা যায়।
 
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার জেরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
 
প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং দ্রুত পরিকল্পিত অভিযানের ফলে বড়সড় মানবপাচারের ঘটনা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আশা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।


শেহতীয়া খবৰ