নয়াদিল্লি ঃ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নয়াদিল্লির যশোভূমিতে এশিয়ার বৃহত্তম টেলিকম, মিডিয়া এবং প্রযুক্তি ইভেন্ট ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৫-এর নবম সংস্করণের উদ্বোধন করেছেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, টেলিকম ক্ষেত্রে দেশের সাফল্য আত্মনির্ভর ভারত দৃষ্টিভঙ্গির শক্তিকে প্রতিফলিত করে।
তিনি বলেন, যে দেশ একসময় ২জি নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, এখন প্রায় প্রতিটি জেলায় ৫জি পরিষেবা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজিটাল সংযোগ আর কোনও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা বিলাসিতা নয়, বরং প্রত্যেক ভারতীয়ের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস অনুষ্ঠানটি কেবল মোবাইল এবং টেলিকমে সীমাবদ্ধ নয়, কয়েক বছরের মধ্যে এশিয়ার বৃহত্তম ডিজিটাল প্রযুক্তি ফোরামে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশ সম্প্রতি মেড ইন ইন্ডিয়া ৪জি স্ট্যাক চালু করেছে, যা দেশের জন্য একটি বড় দেশীয় অর্জন। শ্রী মোদী বলেন, ভারতে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং উৎপাদনের জন্য এটাই সর্বোত্তম সময়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে দেশ একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন, ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম বাজার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম ৫জি বাজার।
এই উপলক্ষে যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, ভারত এখন বিশ্বের ডিজিটাল পতাকা বাহক হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, দেশের টেলিকম বিপ্লব চারটি 'ডি "-র উপর নির্ভরশীল-গণতন্ত্র, জনসংখ্যা, ডিজিটাল ফার্স্ট এবং ডেলিভারি। শ্রী সিন্ধিয়া বলেন, দেশটি ২০১৪ সালে ৬০ মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী থেকে ৯৪৪ মিলিয়ন ব্রডব্যান্ড গ্রাহক পর্যন্ত অসাধারণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দেশের ৯৯.৯ শতাংশ জেলা এখন ৫জি-র সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার মডেল গ্রহণের জন্য বিশ্বের ২০টি দেশ সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, ভারতে এখন বিশ্বের ২০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছেন।
চার দিনের এই অনুষ্ঠানে টেলিকম এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি প্রদর্শিত হবে, যা বিশ্বনেতাদের, নীতিনির্ধারকদের, শিল্প বিশেষজ্ঞদের এবং উদ্ভাবকদের একত্রিত করবে। ১৫০টিরও বেশি দেশ এবং চার শতাধিক সংস্থা থেকে এক লক্ষ ৫০হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এই অনুষ্ঠানে অপটিক্যাল কমিউনিকেশন, টেলিকমে সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন এবং ৬জি-র মতো মূল বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যা পরবর্তী প্রজন্মের সংযোগে ভারতের কৌশলগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটাবে। এই অনুষ্ঠানের থিম হল উদ্ভাবন থেকে রূপান্তর, যা ডিজিটাল রূপান্তর এবং সামাজিক অগ্রগতির জন্য উদ্ভাবনকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।