বিদেশি সন্দেহে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে অভিযুক্তকেই, ভোটার-আধারও চূড়ান্ত প্রমাণ নয়: কলকাতা হাই কোর্ট
কলকাতা:
কাউকে বিদেশি নাগরিক বলে সন্দেহ করা হলে নিজের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই— এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি কিংবা জমির দলিল— কোনওটিই এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তিকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে। মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, তাঁর ভাইপোকে বেআইনিভাবে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং সেই দাবির সমর্থনে ভোটার কার্ড, আধার, প্যান, ব্যাঙ্কের পাসবই, জমির নথি ও অন্যান্য পারিবারিক কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।
তবে আদালত জানায়, এসব নথি পরিচয় বা অন্যান্য প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। আদালতের মতে, নাগরিকত্ব নির্ধারণ হবে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ এবং ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী। ওই ধারায় স্পষ্ট বলা রয়েছে, বিদেশি হওয়ার সন্দেহ দেখা দিলে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।
শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করেছিলেন এবং সেই বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ডিংও রয়েছে। এরপর আইন অনুযায়ী তাঁকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্বের বৈধ প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের প্রমাণ এক বিষয় নয় এবং বিদেশি সংক্রান্ত আইনের আওতায় নাগরিকত্বের দাবি প্রমাণের জন্য আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নথিই বিবেচিত হবে।