কার্যকর নীতি নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিলেন শিক্ষাবিদ ও নীতি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার সরকারি পরিসংখ্যানের সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগকে আরও উন্নত করতে পারে।
মঙ্গলবার কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে (ISI) সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে দু’দিনের এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মত উঠে আসে।
বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপাচার্য স্বামী সর্বোত্তমানন্দজি মহারাজ নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে তথ্যের সহজলভ্যতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতার অর্থনীতির আরবিআই চেয়ার প্রফেসর শৈবাল করও একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। নীতি গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের স্যাম্পলিং অ্যান্ড অফিসিয়াল স্ট্যাটিস্টিকস ইউনিটের (SOSU) উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের নাম ‘ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল স্ট্যাটিস্টিকস কনক্লেভ অন থিওরিটিক্যাল অ্যান্ড এমপিরিক্যাল ইস্যুজ’ (OCTEI 2026)। ৩ ও ৪ নভেম্বর ইনস্টিটিউটের প্ল্যাটিনাম জুবিলি অডিটোরিয়ামে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস মহেন্দ্র দেব। মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, তথ্যের উৎস, সংগ্রহের সময়ের ব্যবধান এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থা বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পদ্ধতির নির্ভরযোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের আস্থার উপর।
সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বিশেষ করে সূচক সংখ্যা গণনার ক্ষেত্রে ভিত্তিবছরের পরিবর্তন এবং জেলা পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা ডিস্ট্রিক্ট ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট (DDP) নির্ধারণের বিষয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
স্বাগত ভাষণে ISI-এর অধিকর্তা অধ্যাপক অমর্ত্য কুমার দত্ত নমুনা সমীক্ষা ও সরকারি পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবদানের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, দেশ গঠনের কাজে অবদান রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নতুন চিন্তাভাবনা ও গবেষণার দিশা তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইআইএম কলকাতার প্রাক্তন অধিকর্তা এবং জাতীয় পরিসংখ্যান কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শৈবাল চট্টোপাধ্যায়ও।
বুধবার সম্মেলনের শেষ দিনে ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, নীতি নির্ধারণে সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণ এবং কৃষি গবেষণা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ও প্যানেল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।