গুয়াহাটি হোটেলকাণ্ডের মূল অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশি এনকাউন্টারে, হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 h ago
গুয়াহাটি হোটেলকাণ্ডের মূল অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশি এনকাউন্টারে, হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ
গুয়াহাটি হোটেলকাণ্ডের মূল অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশি এনকাউন্টারে, হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ
 
গুয়াহাটি: 
 
গুয়াহাটির হোটেলে গুলিচালনার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর মামলার মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের মৃত্যু হল পুলিশি গুলিতে। বুধবার ভোরে অসমের শিবসাগর জেলার গৌরীসাগরে পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে দাবি পুলিশের। এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন।

শিবসাগরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) পাপরি চেতিয়া জানান, অন্য একটি মামলার তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভোর প্রায় ৩টা ১০ মিনিট নাগাদ গৌরীসাগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, গাড়ি থেকে নেমে শৌচকর্মের জন্য যাওয়ার সময় ঘনকান্ত গগৈ তদন্তকারী আধিকারিকের সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তা নিয়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই সময় তদন্তকারী আধিকারিক গুরুতর আহত হন। তাঁকে বাঁচাতে শিবসাগর সদর থানার ওসির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী গুলি চালান।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গগৈকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ আধিকারিক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসএসপি জানান, ধস্তাধস্তির সময় তদন্তকারী আধিকারিকের অস্ত্র থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে সেগুলির কোনওটি কারও গায়ে লাগেনি। একটি গুলি পুলিশের গাড়িতে লাগে।হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, গগৈকে মৃত অবস্থাতেই আনা হয়েছিল। তাঁর হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি গুলির ক্ষত ছিল।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই ২০২৪ সালের একটি ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেফতার করেছিল শিবসাগর পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা আগে গুয়াহাটির হোটেল গুলিকাণ্ডে সাত দিনের পুলিশি হেফাজত শেষ হওয়ার পর আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ অক্টোবর। গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকার হোটেল বিলাস ইন-এ গুলিচালনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং আরও একজন আহত হন। হোটেলের মালিকপক্ষ ও লিজগ্রহীতা গগৈয়ের মধ্যে হোটেল পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য।

মৃতদের মধ্যে ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য ভুদেব ভরালি (৬৫), তাঁর বোন হেলেনা (৫৮), হেলেনার ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ (৩৯) এবং পুত্রবধূ রিনিকা কাশ্যপ (৩০)। এছাড়া পরিবারের কর্মী নারায়ণ দাস (৪৮)-এরও মৃত্যু হয়। গুলিতে আহত হন পরিবারের গাড়িচালক সত্যেন্দ্র পাঠক (৪৩)।

ঘটনার পরই লিজগ্রহীতা ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত .৩২ বোরের পিস্তলও উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে অসম পুলিশ ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেছিল, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিল।

সোমবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণও করেছিল পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিনের মধ্যেই SIT-এর তিন সদস্যকে গুয়াহাটি থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভুদেব ভরালির পরিবার গগৈয়ের সঙ্গে পাঁচ বছরের লিজ চুক্তি করে। মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ১.৮ লক্ষ টাকা। গগৈ হোটেলটির সংস্কার করার পর জায়গাটির ব্যবহার এবং কিছু পরিষেবা দেওয়ার বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সমস্যা মেটাতে ২৬ অক্টোবর হোটেলে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয় এবং অভিযোগ, সেই সময়ই গগৈ ছয়জনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।


শেহতীয়া খবৰ