অসমে ধরা পড়ল বক্সার বাঘিনী, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
অসমে ধরা পড়ল বক্সার বাঘিনী, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের
অসমে ধরা পড়ল বক্সার বাঘিনী, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের
 
গুয়াহাটি/কলকাতা: 

পশ্চিমবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভ থেকে অসমে চলে আসা একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগ্রেসকে অবশেষে উদ্ধার করল বন দফতর। মঙ্গলবার রাতে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে লোকালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে খাঁচাবন্দি করা হয় বলে বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এবার বাঘিনীটিকে বক্সায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ বন দফতর।

পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও জানিয়েছেন, বাঘিনীটিকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। শীঘ্রই উদ্ধার ও স্থানান্তরের কাজ শেষ হতে পারে।

অসমের বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়া জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভের BT1 নামের বাঘিনীটিকে অসমে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন।

গত ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে বাঘিনীটিকে ছাড়া হয়েছিল। এরপর সে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পেরিয়ে অসমে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়নের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে পৌঁছয়।

জয়ন্ত মল্লবরুয়া জানান, ২৩ অক্টোবর থেকে বাঘিনীটি বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। পরে কোকরাঝাড়ের লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় মানুষ ও বন্যপ্রাণী—উভয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।

দুই রাজ্যের বন দফতরের আধিকারিকরা যৌথভাবে বাঘিনীটির গতিবিধির উপর নজর রাখেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরিকল্পিতভাবে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। জয়ন্ত মল্লবরুয়ার কথায়, বাঘিনীটি সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও জানিয়েছেন, রেডিও কলারের সাহায্যে বাঘিনীটির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে বন দফতর তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দিয়েছিল। কারণ, বনকর্মীদের আশা ছিল, রাইমোনা কিংবা ভুটানের জঙ্গল করিডর ধরে সে স্বাভাবিকভাবেই বক্সায় ফিরে যাবে।

কিন্তু গত দুই থেকে তিন দিনে বাঘিনীটি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় উদ্ধার অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অভিযানের জন্য জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (NTCA) প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল।

মনোজ ওরাঁও আরও জানান, বাঘিনীটি সংকোশ নদী পার হওয়ার পর থেকেই বনকর্মীরা সতর্ক ছিলেন। অসম সরকারের সহযোগিতারও প্রশংসা করেছেন তিনি। দুই রাজ্যের যৌথ দল সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘিরে রেখে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালায়। এবার বাঘিনীটিকে নিরাপদে বক্সায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।


শেহতীয়া খবৰ