হুগলির বুকে নৌ-শক্তির নতুন অধ্যায়: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরে তিন দেশীয় যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
হুগলির বুকে নৌ-শক্তির নতুন অধ্যায়: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরে তিন দেশীয় যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং
হুগলির বুকে নৌ-শক্তির নতুন অধ্যায়: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরে তিন দেশীয় যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী, কলকাতা 

ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হল কলকাতায়। ঐতিহাসিক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ— আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়। দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার অভিযাত্রায় এই ঘটনা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
 
একসময়ের কলকাতা বন্দর, বর্তমানের শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হুগলি নদীর তীরে নোঙর করা তিন যুদ্ধজাহাজকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় কমিশনিং পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারতের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির সঙ্গে সমুদ্রশক্তির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সাফল্যের কথা। তিনি জানান, আজকের ভারত শুধু নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।
 
নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া তিন জাহাজের প্রত্যেকটিরই রয়েছে পৃথক বৈশিষ্ট্য ও কৌশলগত গুরুত্ব। আইএনএস দুনাগিরি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি রণতরী, যা বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম। শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার উপযোগী বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থায় সজ্জিত এই জাহাজ নৌবাহিনীর আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা— উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
 
 
অন্যদিকে আইএনএস সংশোধক একটি উন্নত সমুদ্র-সমীক্ষা জাহাজ। সমুদ্রতলের মানচিত্র প্রণয়ন, নৌপথ নির্ধারণ, বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ এবং সামুদ্রিক গবেষণার কাজে এই জাহাজ ব্যবহৃত হবে। ভবিষ্যতের নৌ-অভিযান ও উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃতীয় জাহাজ আইএনএস অগ্রয় মূলত জলের তলদেশে থাকা শত্রু সাবমেরিনের গতিবিধি শনাক্ত ও মোকাবিলার জন্য নির্মিত। আধুনিক অনুসন্ধান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত এই জাহাজ ভারতীয় উপকূল এবং সামুদ্রিক সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে।
 
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিন জাহাজের কমিশনিং শুধু নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির ঘটনা নয়, বরং দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গবেষণা সক্ষমতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশীয় কারিগরি জ্ঞান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে নির্মিত এই জাহাজগুলি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বাস্তব রূপায়ণের সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।ঐতিহাসিক কলকাতা বন্দরের উত্তরসূরি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন দেশের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও এক গভীর যোগসূত্র তৈরি করেছে। অতীতের গৌরব ও ভবিষ্যতের শক্তিকে একসূত্রে বেঁধে এই কমিশনিং অনুষ্ঠান ভারতীয় নৌ-ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
 
দেশীয় প্রযুক্তি, আত্মনির্ভরতা এবং আধুনিক সামরিক সক্ষমতার সম্মিলিত প্রতীক হয়ে তিন নতুন যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তি ভারতের নৌ-শক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।