বিশ্ব শান্তির পথ দেখাতে পারে যোগ, সব বয়সের মানুষের জীবনের অংশ হওয়া উচিত: মোদি

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
বিশ্ব শান্তির পথ দেখাতে পারে যোগ, সব বয়সের মানুষের জীবনের অংশ হওয়া উচিত: মোদি
বিশ্ব শান্তির পথ দেখাতে পারে যোগ, সব বয়সের মানুষের জীবনের অংশ হওয়া উচিত: মোদি

কলকাতা:

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ১২তম বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে আয়োজিত বৃহৎ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যোগ শুধু ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য বা শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি বিশ্বশান্তি ও মানবিক ঐক্যের পথও দেখাতে পারে। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে মানুষ কাজ, খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। ভগবদ্গীতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষম জীবনযাপনই দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির পথ এবং সেই ভারসাম্যের শিক্ষা দেয় যোগ।

তিনি বলেন,
“যোগ আমাদের জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে শেখায়। শরীরকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখলে সুস্থতা অভ্যাসে পরিণত হয়। যোগ কেবল শারীরিক সুস্থতার বিষয় নয়, এটি মানসিক শান্তির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সঠিক পথ দেখায়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ মানুষের মধ্যে আত্মসচেতনতা, সংযম ও অন্তরের শান্তি গড়ে তোলে, যা সমাজে সম্প্রীতি ও বিশ্বশান্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তাঁর কথায়,
“যোগ শুধু আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়, বিশ্বের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

তিনি আহ্বান জানান, যোগকে যেন শুধুমাত্র একটি দিনের অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ করে তোলা হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও এই চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’। এই প্রসঙ্গে মোদি বলেন, যোগ কোনও নির্দিষ্ট বয়সের জন্য নয়, বরং সব বয়সের মানুষের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, ৪০ বছর বয়সে ২০ বছরের চেয়ে বেশি নমনীয় হওয়া, ৫০ বছর বয়সে ৩০ বছরের চেয়ে বেশি উদ্যমী থাকা এবং ৭০ বছর বয়সেও জীবনযাত্রাজনিত রোগের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী থাকা। যোগ সেই শক্তি দেয়।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীঅরবিন্দের দর্শনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃত সত্তা বিশ্ব ও সমাজের সঙ্গে সংযোগের মধ্যেই নিহিত। যোগ সেই সংযোগেরই প্রতীক এবং মানবজাতির ঐক্যের ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, ২১ জুন এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে এবং যোগ বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে একতার বন্ধন গড়ে তুলেছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, যোগকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির অবদান ঐতিহাসিক। তিনি দাবি করেন, এ বছর রাজ্যের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২.৫৭ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসে অংশগ্রহণের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং গোটা পশ্চিমবঙ্গে এক কোটিরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যোগচর্চার ঐতিহ্য রয়েছে এবং এবার কলকাতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান অংশগ্রহণের দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।