নূরুল হক / আগরতলা
মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কমলাসাগরের মিয়াপাড়া এলাকার যুবক সুমন মিয়া। তাঁর উদ্যোগ ও সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অসহায় জীবনযাপন করা প্রমোদ সবর নতুন করে আলো দেখার আশা ফিরে পেলেন।
কমলাসাগর চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা প্রমোদ সবর দীর্ঘদিন ধরে দুই চোখে দেখতে পেতেন না। সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে ওঠে তাঁর। এরই মধ্যে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেলে তিনি একেবারে একা হয়ে পড়েন। জীবিকার কোনো উপায় না থাকায় লাঠির সাহায্যে বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে সামান্য খাবার সংগ্রহ করেই দিন কাটাতেন। ভবঘুরের মত জীবন কাটাতেন তিনি।
প্রমোদের এই করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন মিয়াপাড়া এলাকার যুবক সুমন মিয়া। তিনি প্রথমে প্রমোদ সবরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তীতে তাঁকে হাঁপানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে শুক্রবার তাঁর দুই চোখের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রমোদ সবর ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারেন।
চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেছেন সুমন মিয়া।এই ঘটনায় প্রমোদ সবর যেমন আনন্দিত, তেমনি খুশি কমলাসাগর চা-বাগান এলাকার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
প্রমোদ সবর
এ প্রসঙ্গে সুমন মিয়া বলেন, “আমাদের সমাজে এখনও অনেক অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষ রয়েছেন। আমরা যদি যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর ও মানবিক হয়ে উঠবে।”
মুসলিম যুবকের সহায়তায় হিন্দু যুবকের জীবনে আলো ফেরানোর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মানবতা এখনও বেঁচে আছে মানুষের হৃদয়ে। সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার এমন উদাহরণ নিঃসন্দেহে অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।