কল্পতরু বাজেট: ১ লক্ষ চাকরি, নারী সংরক্ষণ, অগ্নিবীরদের সুযোগ—নতুন বাংলার রূপরেখা পেশ বিজেপি সরকারের
কলকাতা:
পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটকে ইতিমধ্যেই “কল্পতরু বাজেট” বলে অভিহিত করছেন অনেকেই। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় নতুন অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে কর্মসংস্থান, নারীশক্তির ক্ষমতায়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে সামনে রেখে একাধিক বড় ঘোষণা করেন।
সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে রাজ্যে ১ লক্ষ নতুন সরকারি চাকরির ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার পদ পুলিশ বিভাগে এবং ৫০ হাজার পদ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে ব্যবহার করা হবে। বাকি পদগুলিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় থাকা লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীর কাছে এই ঘোষণা নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
নারীশক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে মোট শূন্যপদের ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের সেবায় নিয়োজিত অগ্নিবীরদের সম্মান জানিয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ৫ বছরের ছাড় আরও দু’বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে বহু পরীক্ষার্থী নতুন করে সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু কর্মসংস্থান নয়, প্রশাসনিক সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছে নতুন সরকার। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, “আপনার সরকার, আপনার পাশে” নামে নতুন জনমুখী উদ্যোগ চালু করা হবে, যার লক্ষ্য নাগরিকদের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।
সরকার স্পষ্ট করেছে, রাজ্যের সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প আগের মতোই চালু থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলিকে আরও আধুনিক করা হবে। বিপুল ঋণের বোঝা সত্ত্বেও উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে সরকার।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি সরকারের এই প্রথম বাজেট শুধুমাত্র হিসাবের খাতা নয়, বরং “উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভর বাংলার রোডম্যাপ”। বহু মানুষের কাছে তাই এই বাজেট ইতিমধ্যেই “কল্পতরু বাজেট” হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে।