হলদিয়া (পূর্ব মেদিনীপুর):
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (HPL)-এর ন্যাফথা বহনকারী একটি পাইপলাইনে মঙ্গলবার ভোরে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে প্রথম আগুন দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে হলদিয়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জীবপুর এলাকায়, যার ফলে একাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্পূর্ণভাবে নেভানোর কাজ চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা। এছাড়া HPL-এর দুই নিরাপত্তারক্ষীও আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পাঁচজনকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং আরও প্রায় ১০ জনকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও দুটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ন্যাফথা পাইপলাইনে ফাঁস থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।এই অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি রেলের ওভারহেড বিদ্যুৎ সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (HPL) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কারখানার সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে ন্যাফথা চুরির একটি পয়েন্টের কাছেই ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দায় নির্ধারণ করা ঠিক হবে না বলেও সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ন্যাফথা অত্যন্ত দাহ্য ও বিপজ্জনক পদার্থ। তাই স্থানীয় মানুষকে এর কাছাকাছি না যাওয়া এবং অবৈধভাবে পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্যে হাত না দেওয়ার বিষয়ে আগেও বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল।
HPL জানিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।