কেরল এলডিএফ–ইউডিএফ রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এগোতে চায়: প্রধানমন্ত্রী মোদি

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 11 d ago
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ফাইল ছবি)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ফাইল ছবি)
 
নয়াদিল্লি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার বলেছেন, কেরল এলডিএফ ও ইউডিএফ-এর মধ্যে চলা তথাকথিত “ফিক্সড ম্যাচ” রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। ভোটমুখী রাজ্যে তাঁর সফরের আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এক্স (X)-এ করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন,“আজ তিরুবনন্তপুরমে অনুষ্ঠিত বিজেপি–এনডিএ-র জনসভায় ভাষণ দেওয়ার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সাম্প্রতিক কর্পোরেশন নির্বাচনে এই শহর আমাদের আশীর্বাদ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এটা স্পষ্ট যে কেরল এলডিএফ ও ইউডিএফ-এর মধ্যে চলা ফিক্সড ম্যাচ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।”

আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেরল সফর করবেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন ও সূচনা (ফ্ল্যাগ অফ) করবেন। তিনি চারটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করবেন এবং তিরুবনন্তপুরমে CSIR-NIIST ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ হাব-এর শিলান্যাস করবেন।এ উপলক্ষে তিরুবনন্তপুরমে এক জনসভাতেও তিনি ভাষণ দেবেন।

এই প্রকল্পগুলি রেল যোগাযোগ, শহুরে জীবিকা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন, নাগরিক-কেন্দ্রিক পরিষেবা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক মনোযোগ প্রতিফলিত হয়।

রেল যোগাযোগে বড়সড় উন্নতির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী চারটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করবেন, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং একটি যাত্রীবাহী ট্রেন। এই পরিষেবাগুলির মধ্যে রয়েছে—নাগেরকোয়েল–মেঙ্গালুরু অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, তিরুবনন্তপুরম–তাম্বরম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, তিরুবনন্তপুরম–চারলাপল্লী অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং ত্রিশূর–গুরুভায়ুরের মধ্যে একটি নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন।
 
এই পরিষেবাগুলির সূচনা কেরল, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্যে দীর্ঘপথ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও সময়নিষ্ঠ হবে। উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা পর্যটন, বাণিজ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে অঞ্চলজুড়ে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে।

শহুরে জীবিকা শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পিএম স্বনিধি ক্রেডিট কার্ড চালু করবেন, যা রাস্তার বিক্রেতাদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরবর্তী ধাপের সূচনা করবে। ইউপিআই-সংযুক্ত, সুদমুক্ত ঘূর্ণায়মান ঋণ সুবিধা তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেবে, ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করবে এবং উপভোক্তাদের আনুষ্ঠানিক ঋণ ইতিহাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী কেরলের রাস্তার বিক্রেতাদেরসহ এক লক্ষ উপভোক্তাকে পিএম স্বনিধি ঋণও বিতরণ করবেন। ২০২০ সালে সূচনা হওয়ার পর থেকে পিএম স্বনিধি প্রকল্প অধিকাংশ উপভোক্তাকে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ করে দিয়েছে এবং শহুরে অসংগঠিত শ্রমিকদের দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তিরুবনন্তপুরমে CSIR-NIIST ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ হাব-এর শিলান্যাস করবেন।

এই হাব জীবনবিজ্ঞান ও বায়ো-ইকোনমিকে কেন্দ্র করে কাজ করবে, আয়ুর্বেদের মতো ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থাকে আধুনিক বায়োটেকনোলজি, টেকসই প্যাকেজিং ও গ্রিন হাইড্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং স্টার্টআপ সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও বৈশ্বিক সহযোগিতা করবে। এটি গবেষণাকে বাজার-প্রস্তুত সমাধান ও উদ্যোগে রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।
 
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করাও এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তিরুবনন্তপুরমে শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে একটি অত্যাধুনিক রেডিওসার্জারি সেন্টারের শিলান্যাস করবেন।এই কেন্দ্রটি জটিল মস্তিষ্কজনিত রোগের জন্য অত্যন্ত নিখুঁত ও ন্যূনতম অস্ত্রোপচারভিত্তিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করবে, যার ফলে আঞ্চলিক তৃতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী তিরুবনন্তপুরমে নতুন পুজাপ্পুরা হেড পোস্ট অফিসেরও উদ্বোধন করবেন। এই আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর কেন্দ্রটি ডাক পরিষেবা, ব্যাঙ্কিং, বিমা এবং ডিজিটাল পরিষেবার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিসর প্রদান করবে, যার মাধ্যমে নাগরিক-কেন্দ্রিক পরিষেবা প্রদান আরও শক্তিশালী হবে।