কাশ্মীর ঃ
জম্মু-কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে ফের একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশিত ওই চিঠিতে সম্প্রদায়ের কয়েকজন সরকারি কর্মীকে নিশানা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর আগে ৭ আগস্ট তারিখের একটি চিঠিতেও ছয় কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীর নাম, ফোন নম্বর এবং তাঁদের পরিবারের বিষয়ে তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। চিঠিতে তাঁদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি জম্মুতেও তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
নতুন চিঠিতে ওই ব্যক্তিদের ‘হোয়াইট-কলার টেররিস্ট’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে। চিঠিটি ‘আহমেদ বিলাল’ নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এর সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠির উৎস এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলির সন্দেহ, ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। তবে এই যোগসূত্রও তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
হুমকির পর উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বসবাসের এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কয়েকজন পণ্ডিত সরকারি কর্মীকে সাময়িকভাবে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সংগঠন পানুন কাশ্মীর বিষয়টিকে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখছে এবং চিঠিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ হুমকি মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে চিঠিতে ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে পৌঁছল, তার উৎস এবং কোনও নজরদারি বা তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহও চিঠিটির সত্যতা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন, পাশাপাশি চিঠিটি আদৌ জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে এসেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
ফলে, নতুন এই হুমকিপত্রকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হলেও তদন্তকারীদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন—চিঠিটির প্রকৃত উৎস কী এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে হুমকিদাতাদের হাতে পৌঁছল।