পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় বীরত্ব প্রদর্শনকারী ৫৬ জনকে জম্মু-কাশ্মীর সরকারের বিশেষ সম্মান
জম্মু
আজ প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের বিশেষ মুহূর্তে পহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলায় বীরত্ব প্রদর্শনকারী ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ সম্মান জানাল জম্মু–কাশ্মীর সরকার। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সংঘটিত ওই সন্ত্রাসী হামলার সময় পর্যটকদের রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারানো আদিল হুসেইন শাহ-সহ মোট ৫৬ জনকে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।
সাধারণ প্রশাসন বিভাগের কমিশনার-সচিব এম রাজু জারি করা এক আদেশে জানিয়েছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পহেলগামের হাপাতনার গ্রামের বাসিন্দা আদিল হুসেইন শাহ গত ২২ এপ্রিল পর্যটকদের উপর হামলার সময় পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। ওই ঘটনায় ২৫ জন পর্যটকের সঙ্গে তিনিও নিহত হন। তাঁর এই অসামান্য বীরত্বের জন্য মরণোত্তরভাবে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই সম্মানের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ ও একটি প্রশস্তিপত্র। একই বিভাগে গাঙ্গিয়াল থানার পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর নিখিল কুমারকেও পুরস্কৃত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫১ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও প্রশস্তিপত্র।
প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জম্মু–কাশ্মীর সরকার ১২ জন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীকেও পুরস্কৃত করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পিটিআই শ্রীনগর ব্যুরো চিফ ইনায়াত জাহাঙ্গীর এবং পিটিআই ভিডিও সাংবাদিক জম্মু শামিল আব্রল। অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা হলেন, অবতার কৃষণ ভাট, বিবেক সুরি, সুনীল জি ভাট, দীনেশ মনহোত্রা, বিলাল আহমেদ ভাট, রাজিয়া নূর, ইশফাক গৌহর জারগার, সৈয়দ খালিদ হুসেইন, সরোশ কাফিল এবং নীতা শর্মা।
এদিকে, প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক মহম্মদ শাফি পণ্ডিতকে মরণোত্তরভাবে ‘জীবনব্যাপী সাধনা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। উৎকৃষ্ট জনসেবার জন্য পুরস্কৃত অন্যান্য ব্যক্তিরা হলেন, জম্মুর মুখ্য বন সংরক্ষক ভি এস সেন্টিল কুমার; জে-কে মেডিক্যাল সাপ্লাইস কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক গনাই; রাজ্য সরকারের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রোহিত শর্মা; জনপথ নির্মাণ বিভাগের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার পূজা ওয়াজির এবং বারামুল্লা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. (অধ্যাপক) মাজিদ জাহাঙ্গীর।
সাহিত্যে অবদানের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, যশপাল নির্মল (ডোগরি সাহিত্য), চৌধুরী হাসান পরওয়াজ (গোজরি), পারভেজ মনোস (পাহাড়ি), ফয়াজ দিলবার (কবি, মরণোত্তর), কেবল কৃষণ শর্মা (সাহিত্যিক/কবি) এবং রতন লাল শর্মা (সাহিত্যিক ও অনুবাদক)।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, ক্রিকেটার আকিব নবী দার ও ব্রিজেশ শর্মা, রাকেশ সিং (জুডো), বিশাল খাজুরিয়া (জুডো), সলিম কুমার (উশু), রবীশ আহমদ (অ্যাথলেটিক্স), সুদীপ্তি খান্না (জিমন্যাস্টিক্স), মহম্মদ ইকবাল (অ্যাথলেটিক্স) এবং আয়জা নাজ চিব (স্কেটিং)।
প্রদর্শন কলায় পুরস্কার পেয়েছেন, তনয়া দেব গুপ্তা (কণ্ঠশিল্পী), অনিল টিক্কু (অভিনেতা), আয়াশ আরিফ (অভিনেতা/পরিচালক), আব্দুল হামিদ ভাট (রবাব শিল্পী), রমন সিং স্লাথিয়া (ডোগরি লোকশিল্পী), সুনীল শর্মা (কণ্ঠশিল্পী/সংগীত পরিচালক), অজয় কুমার শর্মা (থিয়েটার), সুদেশ কে বার্মা (প্রযোজক/পরিচালক) এবং নীরজ বার্মা (তবলা বাদক)।
কলা ও কারুশিল্পে উৎকর্ষতার জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, সাজ্জাদ হুসেইন ভাট (সোজনি শিল্পী), ভূষণ কেশর (শিল্পী ও কলা-শিক্ষাবিদ), মহম্মদ শাফি ভাট (কানি শিল্পী), রাজিয়া মুস্তাক (শিল্পী) এবং ইশফর আলি (জ্যেষ্ঠ শিল্প প্রশিক্ষক, পেপার পাল্প)।
সমাজ সংস্কার ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পুরস্কৃত হয়েছেন, কাশ্মীরের উম্বরজাল অ্যাপ্লাইড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা আরহান বাগাতি; শ্রীনগরের কেয়ার ফাউন্ডেশন ও চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মেহজাবিন নবী এবং কাশ্মীরের টিম রেড এনজিও-র সভাপতি সাদাত নাসির ওয়ানি সোগামি।
উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, মহম্মদ নিয়াজ-উল-কবীর (জি আর ৮ স্পোর্টস), শেখ ইয়ামিন (হেভেঞ্চার অ্যাডভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড) এবং সুনীল সিং (আখরোট চাষি, কিস্তওয়ার গোল্ড আখরোট ফার্ম)।