প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
নয়াদিল্লি:
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার দিল্লির ‘সদৈব অটল’ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট প্রয়াত হয়েছিলেন বাজপেয়ী।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে বাজপেয়ীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা-সহ একাধিক বিশিষ্ট নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে অসাধারণ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁর কথায়, অটলবিহারী বাজপেয়ী নিজের জীবন দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং তাঁর নেতৃত্ব ভারতকে আরও শক্তিশালী করেছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সুশাসন ও জনকল্যাণের প্রতি বাজপেয়ীর বিশেষ গুরুত্ব ভবিষ্যতেও দেশকে পথ দেখাবে।
অটলবিহারী বাজপেয়ী শুধু রাজনীতিক ছিলেন না—তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক, অসাধারণ বক্তা এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং পরে ১৯৯৮ ও ১৯৯৯-২০০৪ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথম অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করেন।
তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে টেলিকম নীতি, জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক উদ্যোগে জোর দেওয়া হয়েছিল। সুশাসনকে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।
বাজপেয়ীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সম্মতি ও মতের পার্থক্যের মধ্যেও গণতান্ত্রিক সংলাপ বজায় রাখার চেষ্টা। তাঁর প্রয়াণের আট বছর পরেও দেশের রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর বক্তব্য, নেতৃত্বের ধরন এবং সুশাসনের ভাবনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘সদৈব অটল’-এ দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের শ্রদ্ধা নিবেদন সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তরাধিকারেরই স্মারক হয়ে উঠল।