যেখানে কাঁটাতার পৌঁছয় না, সেখানে নদীর বুকেই অতন্দ্র প্রহরী বিএসএফ

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
যেখানে কাঁটাতার পৌঁছয় না, সেখানে নদীর বুকেই অতন্দ্র প্রহরী বিএসএফ
যেখানে কাঁটাতার পৌঁছয় না, সেখানে নদীর বুকেই অতন্দ্র প্রহরী বিএসএফ
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

সীমান্তের স্থলভাগে কাঁটাতার চোখে পড়ে। কোথাও সীমান্তচৌকি, কোথাও উঁচু নজরদারি টাওয়ার। কিন্তু এই সীমান্তেরই একটা বড় অংশে কাঁটাতার নেই। তার বদলে সামনে শুধু নদী। ওপারে অন্য দেশ। মাঝখানে স্রোত আর বিস্তীর্ণ জলরাশি। আর সেই জলসীমান্তেই দিন-রাত টহল দিয়ে চলেছে বিএসএফের জলযান।
 
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সীমান্তের এই জলপথে নিরাপত্তার ছবিটা কার্যত অন্যরকম। নদীর বুক চিরে এগিয়ে চলেছে টহলদারি জলযান। কখনও নদীর মাঝখানে, কখনও তীর ঘেঁষে, আবার কখনও সরু খাঁড়ির ভিতর ঢুকে পড়ছে সেই জলযান। লক্ষ্য একটাই—জলপথের প্রতিটি গতিবিধির উপর নজর রাখা।
 
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নদী, খাঁড়ি, চর এবং জলাভূমি। বিশেষ করে সুন্দরবন ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল। ফলে স্থলভাগের মতো সর্বত্র কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। সেই জায়গাতেই জলপথের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
 
প্রায় ১১৫ কিলোমিটার নদীপথ জুড়ে নজরদারির ক্ষেত্রে এই জলযানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নদীর স্রোত, জোয়ার-ভাটা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের মধ্যেই চলছে টহল। দিনের পাশাপাশি রাতেও নজরদারি চালানো হয়। সন্দেহজনক কোনও নৌকা বা অস্বাভাবিক গতিবিধি চোখে পড়লেই শুরু হয় তল্লাশি ও নজরদারি।
 
সীমান্তের এই জলপথ শুধু আন্তর্জাতিক সীমারেখা নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল। অবৈধ পারাপার, পাচার কিংবা অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে নদীপথে দ্রুত পৌঁছনোর ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই স্থলভাগের নিরাপত্তার পাশাপাশি জলপথের উপরেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
 
জলযানের ভিতরে থাকা জওয়ানদের জন্য কাজটা সহজ নয়। নদীর স্রোত, ঘন অন্ধকার, কুয়াশা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁদের টহল চালিয়ে যেতে হয়। সুন্দরবনের মতো এলাকায় আবার নদী ও খাঁড়ির জাল এতটাই বিস্তৃত যে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নজরদারি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রতিটি জলপথকেই রাখতে হয় নজরের মধ্যে।
 
প্রযুক্তির ব্যবহারও এই নজরদারিকে আরও শক্তিশালী করছে। রাতের অন্ধকারে নজরদারি, দ্রুতগতিতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পৌঁছে যাওয়া এবং সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে আধুনিক সরঞ্জাম ও জলযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেখলে বোঝা যায়, নিরাপত্তার এই লড়াই শুধু কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে নেই। যেখানে স্থলপথ শেষ হয়ে নদী শুরু হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে আরেক ধরনের সীমান্ত পাহারা।
 
নদীর স্রোত বয়ে যাচ্ছে নিজের নিয়মে। কখনও শান্ত, কখনও উত্তাল। কিন্তু সেই স্রোতের মধ্যেই নিরন্তর এগিয়ে চলেছে বিএসএফের জলযান। চোখ রয়েছে নদীর প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি নৌকায়, প্রতিটি অস্বাভাবিক গতিবিধিতে।১৫ আগস্ট যখন দেশের সর্বত্র তেরঙ্গা উড়ছে, তখন সীমান্তের এই জলপথেও নীরবে চলছে পাহারা। স্থলসীমান্তে কাঁটাতারের ওপারে যেমন প্রহরী, তেমনই জলসীমান্তে নদীর বুকেও রয়েছে অতন্দ্র নজরদারি।
যেখানে কাঁটাতার পৌঁছয় না, সেখানে নদীর বুকেই সীমান্তের প্রহরী—বিএসএফের জলযান।


শেহতীয়া খবৰ