কলকাতা
তিলোত্তমা-কাণ্ডে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর এবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তুললেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, যে ঘটনায় নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে, সেই ঘটনায় তৎকালীন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি পদক্ষেপের আওতায় আনা উচিত।
তিলোত্তমার দেহ দ্রুত দাহ করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও তাঁর গ্রেফতারির খবর নেই।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ অগস্ট। তিলোত্তমার স্মরণসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে দ্রুত নতুন করে মামলা করে পদক্ষেপ করার কথা বলেছিলেন। এরপর তিলোত্তমার বাবা নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাতে গ্রেফতার করা হয় সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে।
নির্মল ও সঞ্জীবের গ্রেফতারির পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এই গ্রেফতারিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, ঘটনার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং গোটা পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যদি নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারি হতে পারে, তাহলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং দেহ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও তাঁর ভূমিকা ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, অভয়ার বাবা-মাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এই সমস্ত অভিযোগই অগ্নিমিত্রা পালের রাজনৈতিক বক্তব্য; এগুলি আদালতে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “যদি নির্মল ঘোষ গ্রেফতার হয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করার দরকার। কারণ সেই সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।”
তাঁর আরও দাবি, তিলোত্তমা-কাণ্ডে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে সোমনাথ দে-র গ্রেফতারির দাবিও পুনরায় তোলেন তিনি।
তিলোত্তমা-কাণ্ডে নতুন করে পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতারির পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং মামলায় আরও কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।