নয়াদিল্লি:
৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, যুদ্ধ, অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধি অর্জন ভারতের অর্থনীতির শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী যদি স্বদেশি পণ্য ব্যবহার এবং আত্মনির্ভরতার ওপর আরও জোর দেন, তাহলে স্বাধীনতার ১০০তম বছরে দেশের তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।তিনি দেশবাসীকে বিদেশে ছুটি কাটাতে না যাওয়ার, বিদেশে গিয়ে বিয়ে না করার এবং প্রয়োজন না থাকলে সোনা না কেনারও আহ্বান জানান।
মোদী বলেন, “৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য আমি দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানাই। তাঁদের সম্মিলিত সংকল্প ও প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। সর্বত্র সংঘাত, যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও ভারত এই মাইলফলক অর্জন করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের কোভিড মহামারির পর থেকে বিশ্বের কোথাও স্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখা যায়নি। তা সত্ত্বেও ভারত অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।
দেশের অভ্যন্তরে কিছু মানুষ নেতিবাচকতা ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন মোদী। তবে এসবের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি এগিয়ে চলেছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে হবে। আমাদের আরও এগোতে হবে। আর তার জন্য আত্মনির্ভর হতে হবে। তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। প্রচেষ্টায় যেন কোনও ঘাটতি না থাকে।”মোদীর দাবি, তাঁর সরকারের নীতিগুলি সঠিক এবং সরকারের উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। সেই কারণেই ভারত উন্নতির নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।
এদিকে এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে ঘিরে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার পরিচয় দিয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের ত্রৈমাসিকের ৮.৬ শতাংশের তুলনায় কমেছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও জ্বালানি বাজারে তার প্রভাবের পরও ৭.৮ শতাংশের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার তুলনায় যথেষ্ট বেশি।