৭৭০ কিমির ‘মহাসড়ক’ কীভাবে বদলে দিতে চলেছে বাংলার ভাগ্য? এক রাস্তাতেই খুলে যাবে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের দুয়ার

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 4 d ago
৭৭০ কিমির ‘মহাসড়ক’ কীভাবে বদলে দিতে চলেছে বাংলার ভাগ্য? এক রাস্তাতেই খুলে যাবে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের দুয়ার
৭৭০ কিমির ‘মহাসড়ক’ কীভাবে বদলে দিতে চলেছে বাংলার ভাগ্য? এক রাস্তাতেই খুলে যাবে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের দুয়ার
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

পাহাড় থেকে সাগর এবার বাঁধা পড়বে এক সুতোয়। উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে দক্ষিণবঙ্গের গঙ্গাসাগরকে জুড়ে দিতে ৭৭০ কিমি দীর্ঘ 'মেগা সড়ক করিডর' এর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। পূর্ত দফতরের (PWD) শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই একটি মহাসড়ক নির্মান হলেই আগামী দিনে বদলে দিতে পারে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্র। 
 
জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই মহাসড়ক শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বুকেই যাতায়াত ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর একটি অংশ ছুঁয়ে যাবে বিহারের কিশানগঞ্জ এবং ঝাড়খণ্ডের কিছু এলাকাকেও। ফলে প্রতিবেশী তিন রাজ্যের মধ্যে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য ও যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ন করিডোর তৈরি করে ফেলবে এই প্রকল্প। এই প্রকল্পের সৌজন্য পণ্য পরিবহণের সময় এবং খরচ একধাক্কায় অনেকেটাই কমে যাবে। ফলে পন্যের দাম কম হলেই এর সরাসরি সুফল পাবেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও কৃষকেরা।
 
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহাসড়ক তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন অর্থাৎ চা শিল্প, কৃষি এবং পর্যটন বিভাগগুলো বিপুলভাবে লাভবান হবে। সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে সুফল পাবেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও। এই রাস্তার কারণে পাহাড়ের চা বা কৃষিজাত পণ্য অনেক কম সময়ে দক্ষিণবঙ্গের বন্দর ও বাজারে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর, সুন্দরবন এবং ডায়মন্ড হারবারের মতো এলাকাগুলোতে যে পর্যটন কেন্দ্রগুলি রয়েছে সেখানে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে গড়ে ওঠা হোটেল, পরিবহণ, মৎস্য শিল্প এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসার প্রসার ঘটবে দ্রুতগতিতে। যোগযোগ ব্যবস্থার দৌলতে হিসাব মতো লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হবে।
 
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মহাসড়কটি হয়ত রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোয় ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের শিল্প সংস্থাগুলি সরাসরি উন্নত সড়ক যোগাযোগের সুবিধা পাবে। এর পাশাপাশি, কুলপিতে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর ভবিষ্যতে চালু হলে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলের মধ্যে এই রাস্তাটি প্রধান অর্থনৈতিক রুট হিসেবে কাজ করবে।
 
বর্তমান ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের নিত্যযাত্রীরা বছরের পর বছর ধরে একটি উন্নত ও যানজটমুক্ত সড়কের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। ৭৭০ কিলোমিটারের মহাসড়ক নির্মানের খবর জানতেই তারা এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। হতে পারে এই সড়ক বাংলার থমকে থাকা উন্নয়নে গতি আনার এক জাদুদণ্ড। পাহাড় থেকে সাগরকে এক সুতোয় বাঁধার এই স্বপ্নপ্রকল্প যদি দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় তাহলে বাংলার অর্থনীতি যে এক লাফে অনেকখানি এগিয়ে দেবে তা বলাই বাহুল্য। যানজটে আটকে থাকা যোগাযোগ ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে এই মহাসড়ক পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে কবে প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে এখন সেটাই দেখার বিষয়।


শেহতীয়া খবৰ