আটক ৬ কুকি যুবককে ঘিরে রণক্ষেত্র কাংপোকপি, গুলি নিরাপত্তা বাহিনীর—আগুন, অবরোধে থমকাল জাতীয় সড়ক-২

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 h ago
আটক ৬ কুকি যুবককে ঘিরে রণক্ষেত্র কাংপোকপি, গুলি নিরাপত্তা বাহিনীর—আগুন, অবরোধে থমকাল জাতীয় সড়ক-২ ছবি(সংগৃহীত)
আটক ৬ কুকি যুবককে ঘিরে রণক্ষেত্র কাংপোকপি, গুলি নিরাপত্তা বাহিনীর—আগুন, অবরোধে থমকাল জাতীয় সড়ক-২ ছবি(সংগৃহীত)
 
ইম্ফল:

ফের উত্তপ্ত মণিপুর। শনিবার কাংপোকপি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছয়জন কুকি যুবক আটক হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামে বিপুল সংখ্যক মানুষ। কয়েকটি জায়গায় জাতীয় সড়ক-২ অবরোধ করে টায়ার ও ধ্বংসাবশেষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি গুলি চালায় বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এসেছে। পরে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তবে গুলি চালানোর ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত কাংপোকপির চাওয়াংকিনিং গ্রামের কাছে। সূত্রের খবর, CRPF-এর CoBRA ইউনিট সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র থাকার সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের নাম সেইলেট, ম্যাংলেন, সাথো, লেনলাল, গিন ও চুচুং। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। কাংপোকপি শহরের পাশাপাশি কেইথেলমানবি, সাপারমিনা, মোটবুং এবং গামগিফাই-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। মহিলা স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ চাওয়াংকিনিংয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল—আটক ছয়জনকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের পথ আটকে দিলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইম্ফল-ডিমাপুর জাতীয় সড়ক-২এ। কাংপোকপি বাজার, মোটবুং-সহ একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে টায়ার ও বিভিন্ন জিনিসপত্রে আগুন ধরানো হয়। এর ফলে সাধারণ যান চলাচলের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িও আটকে পড়ে। এক নিরাপত্তা আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, রাতের দিকে মোটবুং এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর ও পেট্রলবোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে গুলি চালানোর খবরও সামনে আসে। তবে গুলি চালানোর আগে পর্যাপ্ত সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা অন্যান্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িকে বিক্ষোভকারীরা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা যায়। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাড়িটিতে আগুনও লাগে এবং সেটি ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ভিডিয়োটির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ তীব্র আকার নেওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনগুলিতে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের মুক্তির সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর পূর্ণ বিবরণ এখনও পরিষ্কার নয়।

এই ঘটনার পটভূমিতেও রয়েছে মণিপুরের সাম্প্রতিক সংঘাত। মাত্র কয়েকদিন আগেই চাওয়াংকিনিংয়ের একটি নাগা গ্রামে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। CRPF-এর সঙ্গে হামলাকারীদের দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর গ্রামের প্রান্তে কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। এর আগে তামেংলং ও সংলগ্ন এলাকায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের কয়েকজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

শনিবারের ঘটনাকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, কুকি-জো নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের যে তৎপরতা দেখা যায়নি, আটক কুকি যুবকদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ করেছে। এটি বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ; বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও হামলার দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে এবং ঘটনাগুলির তদন্ত চলছে।

দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতে ক্ষতবিক্ষত মণিপুরে কাংপোকপির এই নতুন সংঘাত পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাই ফের সামনে এনে দিয়েছে। আটক, বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি—পরপর ঘটনাগুলিতে ফের অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পাহাড়ি এই জেলায়।


শেহতীয়া খবৰ