নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও গ্রেপ্তার নির্দল প্রার্থী, ২০২১-এর সংঘর্ষের পুরনো মামলায় সইফুল ইসলাম
কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ফের প্রার্থী গ্রেপ্তার। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া প্রায় পাঁচ বছরের পুরনো মামলায় রেজিনগর উপনির্বাচনের নির্দল প্রার্থী সইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র সঙ্গে যুক্ত। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর গ্রেপ্তারির কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এই গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটল নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তারের একদিন পর। প্রায় দুই দশক আগের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলায় শুক্রবার মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরপর দুই উপনির্বাচনে প্রার্থীদের গ্রেপ্তার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় যে মামলা হয়েছিল, তাতেই সইফুলের নাম ছিল। সেই মামলার তদন্তের সূত্রেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটির নির্দিষ্ট ধারা বা সংঘর্ষের বিস্তারিত বিবরণ পুলিশ এখনও প্রকাশ করেনি।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই আসনেই জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, রেজিনগরে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি নওদাতেও জয় পাওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নওদা আসনটি ধরে রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন। ফলে দুটি আসনেই উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।
রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের দল AJUP তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছে। এই পরিস্থিতিতে সইফুল ইসলামের গ্রেপ্তার উপনির্বাচনের প্রচারপর্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এদিকে, শনিবারই AJUP প্রধান হুমায়ুন কবীরকে একটি নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর কথিত ষড়যন্ত্রের একটি মামলায় তাঁকে সোমবার তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়। সম্প্রতি বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করেছিল। পুলিশের দাবি, ওই কথোপকথনে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়েছে। এটি পুলিশের দাবি; মামলার অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।
এর মধ্যেই শুক্রবার মুর্শিদাবাদে গাড়ি তল্লাশির সময় AJUP-এর রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই একের পর এক গ্রেপ্তার, পুরনো মামলা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। দুই আসনেই ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনা হওয়ার কথা।