IIT রুরকির সমাবর্তনে অজিত ডোভাল, পড়ুয়াদের বললেন ‘গত ১০০০ বছরের সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম’

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
IIT রুরকির সমাবর্তনে অজিত ডোভাল, পড়ুয়াদের বললেন ‘গত ১০০০ বছরের সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম’
IIT রুরকির সমাবর্তনে অজিত ডোভাল, পড়ুয়াদের বললেন ‘গত ১০০০ বছরের সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম’
 
হরিদ্বার

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিকাশ ও নতুন নতুন সুযোগের দুনিয়ায় প্রবেশ করছে বর্তমান প্রজন্ম। এই প্রজন্মকে গত এক হাজার বছরের সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম বলে অভিহিত করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। শনিবার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (IIT) রুরকির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
 
দু’দিনের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট ২,৭০১ জন পড়ুয়ার হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামণি। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী হরিশ সালভে এবং IIT রুরকির ডিরেক্টর কে কে পন্ত।
 
পড়ুয়াদের উদ্দেশে ডোভাল বলেন, গত এক হাজার বছরে বর্তমান প্রজন্মই এমন একটি সময়ে বড় হচ্ছে, যখন তাদের সামনে অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। অতীতের বহু প্রজন্মকে দাসত্ব ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে জীবন কাটাতে হয়েছে। তাঁর মতে, শুধু ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বেই পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং প্রযুক্তি আগামী দিনে কোনও দেশ বা সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হবে।
 
সমাবর্তনে নিজের গোয়েন্দা জীবনের শুরুর দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাও পড়ুয়াদের সঙ্গে ভাগ করে নেন ডোভাল। তরুণ বয়সে সিকিমে গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে থাকার সময়ের একটি সীমান্ত অভিযানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
 
ডোভাল জানান, সেই সময় সিকিম ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। তাঁর দায়িত্বের অন্যতম অংশ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।
 
একবার একটি গোয়েন্দা দল সীমান্ত এলাকায় অভিযানে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে না আসায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। পাঁচ দিন, দশ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও দলের কোনও খবর না মেলায় পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আশঙ্কা বাড়তে থাকে।
 
পরে সদর দফতর থেকে তাঁকে জানানো হয়, ওই সদস্যদের চিনা বাহিনী আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আলোচনার পর তাঁদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। ডোভাল জানান, ফিরে আসার পর তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়। সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো তাঁর কর্মজীবন সেখানেই শেষ হয়ে যাবে।
 
তবে তদন্তে তাঁকে কোনও ভুলের জন্য দায়ী করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সদর দফতর থেকে দেওয়া স্কেচ ও মানচিত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
 
সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভেও বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে পড়ুয়াদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম এমন এক সময়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে, যখন গোটা বিশ্বব্যবস্থাই দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
 
সালভের মতে, যে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আগের প্রজন্ম স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছিল, বর্তমানে তা আর একইভাবে নিশ্চিত নয়। তাই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে কখনও স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে ধরে না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
 
তিনি আরও বলেন, নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রজন্মের উপর বড় দায়িত্ব থাকবে। আর সেই নতুন ব্যবস্থার কেন্দ্রে প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
 
সমাবর্তনে ডোভালও পড়ুয়াদের মনে করিয়ে দেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের সময়ে তাঁদের সামনে যেমন বিপুল সুযোগ রয়েছে, তেমনই ভবিষ্যতের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তাঁদের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।


শেহতীয়া খবৰ