অশ্বিনী বৈষ্ণব: বিশ্বের সবচেয়ে বড় AI সম্মেলনে পরিণত হচ্ছে ইন্ডিয়া AI ইমপ্যাক্ট সামিট
নয়াদিল্লি
ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে আসন্ন ইন্ডিয়া AI ইমপ্যাক্ট সামিট (India AI Impact Summit)- বিশ্বজুড়ে অসাধারণ সাড়া পাচ্ছে, যা এটিকে বিশ্বের মধ্যে এই ধরনের সবচেয়ে বড় AI সম্মেলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, প্রায় ১০০টি দেশের অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১৫ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ইতোমধ্যেই উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিল্পক্ষেত্র থেকেও সমান উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, ১০০-এর বেশি বৈশ্বিক CEO এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বৈষ্ণব জানান যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি AI ভ্যালু চেইনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যাদের মধ্যে ছিলেন মডেল ডেভেলপার, অ্যাপ্লিকেশন নির্মাতা এবং অবকাঠামো প্রদানকারীরা। তাঁর বক্তব্যে ফুটে ওঠে যে কিভাবে ভারত AI আর্কিটেকচারের পাঁচটি স্তরেই অগ্রসর হচ্ছে এবং বিশেষ করে অ্যাপ্লিকেশন লেয়ারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। তিনি বলেন, “খেয়াল করার বিষয় হলো, ভারত তার AI ইকোসিস্টেমকে কতটা পদ্ধতিগত ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, মডেল নির্মাতা, অ্যাপ নির্মাতা, অবকাঠামো প্রতিষ্ঠাকারী, তাদের কাজ দেখলে সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “AI আর্কিটেকচারের পাঁচটি স্তর রয়েছে। অ্যাপ লেয়ার, যাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছিলেন, তাদের কাজ অত্যন্ত উৎসাহজনক। গত কয়েক দশক ধরে আমাদের IT শিল্প যে শক্তি অর্জন করেছে, সেই শক্তিই আজ প্রচলিত সফ্টওয়্যার উন্নয়ন মডেলের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধান তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
বৈষ্ণব জোর দিয়ে জানান, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি AI মডেল তৈরি করেছে, এগুলোর বেশিরভাগই ছোট, নির্দিষ্ট এবং সেক্টরভিত্তিক, যেগুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত বাস্তবসমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে নকশা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “যখন তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন, তারা জানান যে ইতোমধ্যেই ২০০-র বেশি মডেল তৈরি হয়েছে, অত্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক, ছোট আকারের, এবং একেবারে নির্দিষ্ট কোনো সেক্টরের বাস্তব সমস্যার সমাধানের জন্য প্রস্তুত। আমার মনে হয় এটি একটি বড় শিক্ষা, অনেকে আজ যে কথাটি বলেন তা হলো, AI-এর প্রকৃত মূল্য আসবে এর বাস্তব প্রয়োগ থেকে, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে।”
সম্প্রতি AI স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সপ্তাহের শুরুতে রাজধানীতে তাঁর সরকারি বাসভবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রের CEO এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনা করেন। ১৬–২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া India AI Impact Summit-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বৈঠকের লক্ষ্য ছিল কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো, AI–এর নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরা এবং ভারতের AI মিশনের লক্ষ্যগুলোকে আরও দ্রুত বাস্তবে রূপ দেওয়া। আলোচনায় উপস্থিত CEOs AI–এ আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে আন্তরিক সমর্থন জানান। পাশাপাশি, AI ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বনেতা করে তুলতে সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং যে বিনিয়োগ করছে, তারও উচ্চ প্রশংসা করেন তারা।