বিহারের পর অসমেও মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা, কেন্দ্রের আশ্বাসে আশাবাদী ‘ককরোচ’ আন্দোলনকারীরা
নয়াদিল্লি
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের পথে আরও এক রাজ্য। বিহারের পর এবার অসম সরকারও ‘ককরোচ’ আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর এই বার্তা সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু বিহার বা অসম নয়, এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতারা। বৈঠক শেষে সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাঁদের হাতে বিহার ও অসম সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তির কপি তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের বিষয়ে অন্যান্য এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলিকেও একই পথে এগোতে বলা হবে।
দিনের শুরুতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়। মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে মানা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে বহু ছাত্রছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের হয়রানিরও অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমে বিহার সরকার জানায়, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির কথাও জানানো হয়। এরপর গভীর রাতে একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানায় অসম সরকার।
বৈঠক শেষে সৌরভ দাস বলেন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বর্তমানে যাঁরা আটক রয়েছেন, তাঁদের মুক্তির বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, আগামী দিনের মধ্যেই আরও কয়েকটি রাজ্য থেকেও একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে।
তবে এই ঘোষণার পর নতুন করে নজরে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি। গত শুক্রবার কলকাতার ডোরিনা ক্রসিংয়ে আন্দোলনের সময় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, পুলিশের উদ্দেশে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়। সেই ঘটনায় পুলিশ ১৬ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে।
এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বিহার ও অসমের মতো যদি অন্যান্য রাজ্যেও মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তাহলে কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া ওই ১৬ জনের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি অনুসরণ করা হবে? যদিও এই বিষয়ে এখনও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হয়নি।