প্রয়াণ দিবসে 'মিসাইল ম্যান' ড. এ.পি.জে. আবদুল কালামকে শ্রদ্ধার্ঘ্য, স্মরণ করল দেশ
নয়াদিল্লি
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং 'মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া' নামে পরিচিত ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম-এর প্রয়াণ দিবসে সোমবার তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করল গোটা দেশ। ২০১৫ সালের এই দিনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বিশ্বমানের উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদান আজও ভারতবাসীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে বলেন, উন্নত, আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন ড. কালাম। দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ কর্মসূচিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জ্ঞান, শৃঙ্খলা, সরল জীবনযাপন এবং জাতির সেবাকেই ড. কালাম তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর চিন্তাভাবনা ও আদর্শ দেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস, উদ্ভাবনী শক্তি এবং দেশ গঠনের মানসিকতা জাগিয়ে তুলেছে। আজও তাঁর জীবনদর্শন তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে নিষ্ঠাবান থাকার প্রেরণা জোগায়।
এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও সামাজিক মাধ্যমে ড. কালামকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ভারতের মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর অসাধারণ অবদান ভারতকে একটি শক্তিশালী কৌশলগত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, ড. কালামের প্রজ্ঞা ও জীবনদর্শন লক্ষ লক্ষ মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নের সাহস জুগিয়েছে। দেশের প্রতি তাঁর নিবেদন, কর্মনিষ্ঠা এবং বিনয় ভবিষ্যতেও দেশপ্রেমিকদের কাছে আদর্শ হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি থেকে বিজ্ঞানী, প্রতিটি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তাঁর স্বপ্ন, আদর্শ এবং কর্মজীবন আজও নতুন প্রজন্মকে উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।