ঝাড়খণ্ডে বাংলা ভাষার অধিকার নিয়ে সরব বাংলাভাষী উন্নয়ন সমিতি, বিধানসভাতেও উঠল দাবি
রাঁচি:
ঝাড়খণ্ডে মাতৃভাষা বাংলার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে। বাংলা অ্যাকাডেমি গঠন, বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলিতে নিয়মিত বাংলা পাঠ্যবই সরবরাহ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলায় পঠন-পাঠনের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে ঝাড়খণ্ড বাংলাভাষী উন্নয়ন সমিতি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে রাঁচির কুটে ময়দানে গণ-অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাভাষীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি এবার পৌঁছে গিয়েছে ঝাড়খণ্ড বিধানসভার অন্দরেও।
সংগঠনের কার্যকরী সভানেত্রী রিনা মণ্ডলের দাবি, অবিভক্ত বিহারে বাংলা অ্যাকাডেমি ছিল। ঝাড়খণ্ড পৃথক রাজ্য হওয়ার সময়ও নতুন রাজ্যে বাংলা অ্যাকাডেমি গড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
রিনা মণ্ডল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের সঙ্গে গত দু’বছর ধরে দেখা করার চেষ্টা করা হলেও সময় পাওয়া যায়নি। বাংলাভাষীদের দাবি এভাবে উপেক্ষিত হলে ভবিষ্যতে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বাংলায় শিক্ষার সুযোগ এবং বাংলা ভাষার অধিকার নিয়ে একাধিক বিধায়ক সরব হয়েছেন।
নিরসা কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি এই বিষয়ে বিধানসভায় দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন এবং তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, বিহারে যদি বাংলা অ্যাকাডেমি থাকতে পারে, তাহলে ঝাড়খণ্ডে কেন তা হবে না?
বাংলা ভাষায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগুলিতে বাংলা পাঠ্যবই সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
একই দাবিতে বিধানসভায় সরব হয়েছেন গড়িয়াহাট কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক প্রদীপ যাদব, ঘাটশিলা কেন্দ্রের জেএমএম বিধায়ক সোমেশচন্দ্র যাদব এবং বাহারাগোড়া কেন্দ্রের বিধায়ক সমীর কুমার মহান্তি।
বিধায়কদের বক্তব্য, বাংলা বই না থাকলে বাংলাভাষী পড়ুয়ারা কীভাবে মাতৃভাষায় পড়াশোনা করবে? বহু এলাকায় বাঙালি জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও স্কুল-কলেজে বাংলা পড়ার সুযোগ ক্রমশ কমছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
বাংলাভাষী উন্নয়ন সমিতির দাবি, ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী বাঙালিদের মাতৃভাষায় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, বাংলা অ্যাকাডেমি গঠন, স্কুলে বাংলা বই সরবরাহ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ চালু রাখা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া বাংলায় পঠন-পাঠন পুনরায় শুরু করা—এই বিষয়গুলিতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংগঠনের মুখপাত্র রাজেশ রায়ের কথায়, বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনের আওয়াজ ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছে।
রাঁচির এই আন্দোলন তাই শুধু একটি ভাষার পাঠ্যবই বা শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি নয়—ঝাড়খণ্ডে বসবাসকারী বাংলাভাষী মানুষের ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার দীর্ঘদিনের দাবিরই নতুন প্রকাশ।