নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী ছেলেকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৩

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 22 h ago
নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী ছেলেকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৩
নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী ছেলেকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৩
 
কলকাতা: 

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় স্থানীয় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর আইনজীবী ছেলেকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার পুলিশ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।

নিহতরা হলেন অনিসুর রহমান (৫০) এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান (২৪)। শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁরা গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে নাকাশিপাড়ার নাগাদি রেলগেটের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকায় দুষ্কৃতীরা।

অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রথমে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা ও ছেলের উপর হামলা চালানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।আবু সুফিয়ান কৃষ্ণনগর আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন হারানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতিমা বিবি, সাহেব শেখ এবং মিঠু শেখ। ফতিমা বিবির স্বামী জব্বর শেখ, যিনি বর্তমানে জেলে রয়েছেন, তাঁকেই এই হত্যাকাণ্ডের মূলচক্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিন অভিযুক্তকে কৃষ্ণনগর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের নয় দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সূরজিৎ কুমার দে জানান, তদন্ত চলছে। হামলায় মোট কতজন জড়িত ছিল এবং কত রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, এই হত্যার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন জড়িত। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে যে জেলে থাকা জব্বর শেখই এই হত্যাকাণ্ডের মূলচক্রী।

অধিকারী বলেন, জব্বর শেখের স্ত্রী, যিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান, তিনিও গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর দাবি, আইনের চোখে প্রত্যেকেই সমান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কংগ্রেস নেতা টিপু সুলতানও অভিযোগ করেছেন, জেল থেকেই জব্বর শেখ দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন। স্বাধীনতা দিবসের দিনে এমন নৃশংস ঘটনা জননিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ‘কালা দিবস’ পালন করেন। তাঁর অভিযোগ, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।

শুভঙ্কর সরকারের আরও দাবি, নদিয়ার বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে অনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের কংগ্রেসে যোগদান ঠেকাতেই এই হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।