তারাপীঠে ভোররাতেই ভয়াবহ আগুন! শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার প্রচুর পুণ্যার্থী এসেছেন, ঘুমের মাঝেই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 22 h ago
তারাপীঠে ভোররাতেই ভয়াবহ আগুন! শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার প্রচুর পুণ্যার্থী এসেছেন,  ঘুমের মাঝেই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর
তারাপীঠে ভোররাতেই ভয়াবহ আগুন! শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার প্রচুর পুণ্যার্থী এসেছেন, ঘুমের মাঝেই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ

তারাপীঠে এখন শুধুই কান্নার রোল। যারা বেঁচে গেলেন সেইসব পুর্নার্থীদের চোখেমুখে এখন ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে এমনিতেই তারাপীঠের শক্তিপীঠে পুণ্যার্থীদের ভিড় রয়েছে যথেষ্ট। সোমবারের সকালটা যে আর দেখা হবে না, তা কেই বা জানত। মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল তারাপীঠে। তারাপীঠ থানার কাছে থাকা একটি চারতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেল। সাতসকালেই ধোঁয়া দেখতে পেয়েই উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। সূত্রের খবর, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫ জন পুণ্যার্থীর। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগুনে ঝলসে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ৫ জনকে উদ্ধার করে রামপুরহাট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর আনুমানিক ৪টে নাগাদ হোটেলের রিসেপশন কাউন্টার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী পুণ্যার্থী জানান, অনেকেই ঘুমে আছন্ন ছিলেন। হঠাৎ ঘর কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। সকলেই ভয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেন। ভয়ে দিশেহারা হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে নিচে নামার চেষ্টা করতেই আরও বিপত্তি বাধে।  কারণ এই হোটেলের আগুনের উৎস ছিল নিচেই।
 
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রিসেপশনের AC-র সুইচবোর্ডে শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তাঁরা আক্ষেপের সঙ্গে জানালেন, দ্রুত এমসিবি (MCB) নামিয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সকলকে সতর্ক করতে তারপরই চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু, ততক্ষণে আগুন হোটেলের বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে যায়। বিশেষ করে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যাওয়ায় আরও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রিসেপশনে থাকা ফাইবার ও কাঠের আসবাব থাকায় দাহ্য পদার্থের জেরে আগুন দ্রুত একতলা থেকে দুই ও তিনতলায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যায়।
 
ঘুমের ঘোরে আটকে পড়া পুণ্যার্থীদের অধিকাংশকেই নিচে নামার চেষ্টা করার সময় কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হতে থাকে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারাপীঠ থানার পুলিশ ও দমকলের ইঞ্জিন। প্রাথমিক অবস্থায় হোটেল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অগ্নি-নির্বাপক সরঞ্জাম ব্যবহার করে লড়াই চালানো হয়। পরবর্তীতে দমকল কর্মীরা টানা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের জেরে পুরো হোটেল কালো ধোঁয়ায় ঢেকে থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধারকাজে ব্যাপক বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের।
 
বর্তমানে হোটেল চত্বর কর্ডন করে রেখা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের তরফে। এতবড় আগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে হোটেলের সুরক্ষাবিধিতে বড় কোনো গাফিলতি ছিল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দমকল আধিকারিকরা। শ্রাবণের পবিত্র ভোরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো তারাপীঠ জুড়ে