মধ্যরাতে মাস্ক পরে ছাত্রীর ছদ্মবেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী! দেখে ফেললেন হাসপাতালের দৃশ্য, পরিচয় মিলতেই ঘুম উড়ল কল্যাণী JNM কর্তৃপক্ষের
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
কি হয় সেখানে, দেখতে ছাত্রীর ছদ্মবেশে হাসপাতালে ঢুকে পড়লেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। মুখে সার্জিকাল মাস্ক, পরনে সাদামাটা পোশাক পরা। দেখে বোঝা যাবে না এই জন্য সঙ্গে নিলেন গুনে গুনে দুজন সাধারণ পোশাকের মহিলা পুলিশ কর্মী। মধ্যরাতে অর্থ্যাৎ রাত ১২টা নাগাদ নদিয়া জেলার কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল অর্থ্যাৎ JNM হাসপাতালে আচমকা হাজির হলেন 'ছাত্রী'-র বেশে থাকা প্রতিমন্ত্রী। চুপিচুপি জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ালেন তিনি। রাতের অন্ধকারে সাধারণের আনাগোনা ভেবে ঘুণাক্ষরেও হাসপাতালের কেউ টের পাননি ওই সাধারণ ছাত্রীর ছদ্মবেশে হাসপাতালে ঘুরছেন স্বয়ং রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। আর মন্ত্রীর এই সারপ্রাইজ ভিজিটেই যেন ধরা পড়ে গেল হাসপাতালের ভেতরের কঙ্কালসার পরিকাঠামো। চূড়ান্ত অব্যবস্থার ছবিটাও চলে এল সামনে।
সারপ্রাইজ ভিজিটে মন্ত্রী দেখলেন, এই হাসপাতালের বিভাগগুলো কমবেশি অপরিচ্ছন্ন। এমনকি ওয়ার্ডের ভেতরে রোগীর বেডের পাশেই অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিড়াল। হাসপাতাল চত্বর জুড়ে আগাছা বংশবিস্তার করেছে। পর্যাপ্ত খালি বেড থাকা সত্ত্বেও রোগীরা বেড না পাওয়ারও অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিদর্শনকালে রাতে হাসপাতালে ডিউটিরত কোনো সিনিয়র চিকিৎসকের দেখা মেলেনি বলে খবর। হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ শোনা গেল মন্ত্রীর মুখে। এতবড় হাসপাতালের পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখে ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী সুমনা সরকার। তিনি বলেন, আজকে আমি যে ড্রেসে এসেছি, এই ড্রেসে সচরাচর বেরোই না।
এটা শুধুমাত্র সারপ্রাইজ ভিজিটে আসব বলে ছাত্রী সেজে এসেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই দুর্দশা অত্যন্ত নিন্দনীয়। খালি বেড যাতে রোগীরা অবিলম্বে পান আর জুনিয়র ডাক্তাররা যাতে দায়িত্ব সহকারে কাজ করতে পারেন, সেই বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে যান মন্ত্রী। এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য স্বাস্থ্য মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। এরপরই সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে সাফাই অভিযান। মন্ত্রীর এই কড়া দাওয়াইয়ের পর কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালের রূপ কতটা বদলায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।