পেপারলেস স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত ত্রিপুরায় ;আগরতলায় যাত্রা শুরু করল অত্যাধুনিক ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সিভিল হাসপাতাল
নূরুল হক, আগরতলা:
আগরতলা শহর সহ রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। রাজধানীর জ্যাকসন গেট সংলগ্ন এলাকায় যাত্রা শুরু করলো ৫০ শয্যার অত্যাধুনিক ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আগরতলা সিভিল হাসপাতাল । ২০.৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতাল ত্রিপুরা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীন প্রথম পেপারলেস হাসপাতাল।আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। উদ্বোধনের পর হাসপাতালের বহির্বিভাগ (ওপিডি) পরিষেবা চালু হয়েছে।
রাজ্যের প্রথম সারির পেপারলেস ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা-ভিত্তিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানে রোগীদের নিবন্ধন ও চিকিৎসার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। আভা কার্ড, আধার কার্ডসহ অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে রোগীদের তথ্য সহজেই হাসপাতালের নথিতে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক।
হাসপাতালটিতে মাইনর সার্জারি, নরমাল সার্জারি, মেডিসিন, গাইনোকোলজি এবং ইএনটি বিভাগের পাশাপাশি মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা পরিষেবা থাকবে। অক্সিজেন সুবিধাসম্পন্ন ৫০টি শয্যা, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এবং প্রতিদিনের ওপিডি ব্যবস্থার পাশাপাশি এমবিবিএস, এমডি ও বিভিন্ন বিভাগের সুপার স্পেশালিস্ট চিকিৎসকরাও নিয়মিত রোগী দেখবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিকে পর্যায়ক্রমে আধুনিক করা হচ্ছে এবং প্রতিটি পুরসভা ও নগর এলাকায় এ ধরনের আধুনিক সিভিল হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তাঁর দাবি, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত হওয়ায় রেফারেল রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই সাতটি কিডনি প্রতিস্থাপন (১৫ জুলাই পর্যন্ত ৮টি) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই আরও দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে হার্ট ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট পরিষেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, পুর নিগমের কমিশনার সাজু ওয়াহিদ সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।নতুন এই হাসপাতাল চালু হওয়ায় রাজধানীর প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবি হাসপাতালের উপর রোগীর চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য মহলের একাংশ। একই সঙ্গে আগরতলা শহরের বাসিন্দারা নিজেদের এলাকাতেই উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল ও পেপারলেস ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আগরতলা সিভিল হাসপাতালের যাত্রা শুধু একটি নতুন হাসপাতালের উদ্বোধন নয়, বরং ত্রিপুরার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী করে তোলার পথে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।