সরকারি স্বাস্থ্য বিমার টাকা দিয়ে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, অসমের মডেলকে ‘কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য’ বলল সংসদীয় কমিটি

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 9 d ago
সরকারি স্বাস্থ্য বিমার টাকা দিয়ে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, অসমের মডেলকে ‘কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য’ বলল সংসদীয় কমিটি
সরকারি স্বাস্থ্য বিমার টাকা দিয়ে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, অসমের মডেলকে ‘কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য’ বলল সংসদীয় কমিটি
 
গুয়াহাটি: 

সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া চিকিৎসা পরিষেবার অর্থ হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করছে অসম। রাজ্যের এই ব্যবস্থাকে ‘অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও অনুসরণযোগ্য মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

৭ আগস্ট রাজ্যসভায় পেশ এবং লোকসভায় টেবিলে রাখা কমিটির ১৭৬তম রিপোর্টে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরিষেবার সহজলভ্যতা ও খরচ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানেই অসমের এই মডেলের প্রশংসা করা হয়েছে।

কমিটির পর্যবেক্ষণ, সরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অর্থের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে অসমে সরকারি হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)-সহ জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প থেকে পাওয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত বিমার অর্থ নিজেদের পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির মতে, এই ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালগুলির রাজ্য সরকারের অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। একইসঙ্গে হাসপাতালগুলিকে নিজেদের পরিষেবা ও পরিকাঠামো ধারাবাহিকভাবে উন্নত করার আর্থিক সক্ষমতা দিতে পারে।

অসমের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রককে মানসম্মত পরিচালন নির্দেশিকা বা এসওপি তৈরির সুপারিশ করেছে কমিটি।

হাসপাতালগুলির বিমা-ভিত্তিক চিকিৎসা পরিষেবা থেকে পাওয়া অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্থানীয় হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা এবং রোগীদের কল্যাণমূলক কাজে পুনর্বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, সরকারি স্বাস্থ্য বিমার অর্থ শুধু রোগীর চিকিৎসার খরচ মেটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে সেই অর্থ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতেও কাজে লাগতে পারে।

সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে অসমে সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পগুলির ব্যবহার বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত এবং অসমের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AA-MMJAY)-র আওতায় দৈনিক গড় চিকিৎসার সংখ্যা প্রায় ৫০০ থেকে বেড়ে ২,০০০ হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া ‘আপকে দ্বার আয়ুষ্মান’ অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লক্ষ জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (NFSA) আওতাভুক্ত মানুষের ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালগুলিতে সুবিধাভোগীদের পরিষেবা পেতে সহায়তার জন্য হাসপাতাল প্রশাসকদের যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রকল্পে জালিয়াতি বা অনিয়ম রুখতে একাধিক স্তরের নজরদারি ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে।

অসমের স্বাস্থ্য প্রকল্পে জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছে সংসদীয় কমিটি। জেলা মেডিক্যাল আধিকারিক, তৃতীয় পক্ষের অডিটর এবং বিমা পরিষেবা সংস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা, সুবিধাভোগী এবং হাসপাতালের পরিকাঠামো—তিন ক্ষেত্রেই অডিট করা হচ্ছে।

কমিটির মতে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পে অর্থের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসমের এই বহুস্তরীয় অডিট ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য রাজ্যও অনুসরণ করতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির এই পর্যবেক্ষণ সরকারি স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থাকে ঘিরে নীতিগত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতদিন মূলত স্বাস্থ্য বিমার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমানো এবং আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

অসমের মডেল দেখাচ্ছে, বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ হাসপাতালের নিজস্ব পরিকাঠামো ও চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করতেও ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে এর জন্য স্বচ্ছ হিসাব, নিয়মিত অডিট এবং অর্থের নির্দিষ্ট খাতে পুনর্বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সংসদীয় কমিটিও একইসঙ্গে নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ফলে অসমের এই উদ্যোগ এখন শুধু রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি আর্থিক মডেল নয়; বরং সরকারি স্বাস্থ্য বিমার অর্থ কীভাবে হাসপাতালগুলির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করা যায়, সেই বৃহত্তর জাতীয় নীতির ক্ষেত্রেও একটি সম্ভাব্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।