কলকাতা
সরকারি হাসপাতালগুলিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন যাতে কোনওভাবেই রোগীদের হাতে না পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যদপ্তর। হাসপাতালগুলিতে ওষুধের মজুত নিয়মিত খতিয়ে দেখতে খুব শীঘ্রই নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করা হবে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, কলকাতা থেকে জেলা, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে এবার থেকে প্রতি সাত দিনে একবার করে ওষুধের স্টক অডিট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসার পর গোটা ব্যবস্থাকেই আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালের স্টোররুমে থাকা ওষুধের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ড, কেবিন, চিকিৎসা কক্ষ এবং বিভিন্ন ইউনিটে রাখা ওষুধ ও স্যালাইনও নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। প্রতিটি ওষুধের উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ খুঁটিয়ে দেখা হবে। কোথাও কোনও ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে থাকলে, তা একদিন আগেই হোক বা তারও আগে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, এই সাপ্তাহিক অডিটে কোনও ধরনের গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শো-কজ নোটিস জারি করা হবে। পাশাপাশি দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাম্প্রতিক ঘটনা। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগীর পরিবার অভিযোগ করে, স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীর শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, ব্যবহৃত স্যালাইনের মেয়াদ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মধ্যে প্রতিটির মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করা সবসময় সম্ভব হয় না। তবে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি স্বাস্থ্যদপ্তর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্যালাইনটি হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে পড়ে ছিল। সেই কারণেই এবার থেকে শুধু স্টোর নয়, হাসপাতালের প্রতিটি কোণায় রাখা ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীও নিয়মিত তল্লাশির আওতায় আনা হচ্ছে। যাতে কোনও পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ভুলবশত রোগীদের ব্যবহারে না আসে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে, অতীতেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণ বা ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। জয়নগর গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ওল্ড মালদহ গ্রামীণ হাসপাতাল-সহ একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার গোটা ওষুধ সংরক্ষণ ও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
নতুন এসওপি কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ওষুধ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত স্টক যাচাই এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অপসারণের প্রক্রিয়া আরও সুসংহত হবে বলেই মনে করছে স্বাস্থ্যদপ্তর।