নগদ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত, সংসদে পেশ তদন্ত রিপোর্ট

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 6 d ago
নগদ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত, সংসদে পেশ তদন্ত রিপোর্ট
নগদ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত, সংসদে পেশ তদন্ত রিপোর্ট
 
নয়াদিল্লি: 

দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার সরকারি বাসভবনে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানাল সংসদীয় তদন্ত কমিটি। বুধবার লোকসভায় কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হয়।

২০২৫ সালের ১৪ মার্চ রাতে দিল্লির ৩০, তুঘলক ক্রিসেন্টে বিচারপতি বর্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া টাকার বড় অংশই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।

ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন ওঠে, বিচারপতির সরকারি বাসভবনের স্টোররুমে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কীভাবে এল। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, টাকার উৎস ও মালিকানা সম্পর্কে বিচারপতি বর্মা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

লোকসভা স্পিকারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি নগদ উদ্ধারের ঘটনা এবং তার পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্টোররুমে বিপুল পরিমাণ নগদ থাকার বিষয়টি এবং সেই টাকার উৎস সম্পর্কে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্তের সময় প্রমাণ সংরক্ষণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কমিটির দাবি, স্টোররুম যথাযথভাবে সিল করা হয়নি এবং তদন্তের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা সরিয়ে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া কিছু নোট পরে কোথায় গেল, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিচারপতি বর্মা নিজে ওই টাকা সরিয়েছিলেন—এমন কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ তদন্ত কমিটি পায়নি। কিন্তু তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা কমিটির কাছে সন্তোষজনক হয়নি।

এর আগে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ইন-হাউস কমিটিও ঘটনাটি তদন্ত করেছিল। সেই তদন্তে স্টোররুমটির উপর বিচারপতি বর্মার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

নগদ উদ্ধারের ঘটনার পর বিচারপতি বর্মাকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সংসদে অপসারণ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি বর্মা নিজেই পদত্যাগ করেন।

এখন সংসদে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর ফের সামনে এসেছে বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা, বিচারপতিদের জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।