জানুয়ারি ২০২৬— রেকর্ড অনুযায়ী পঞ্চম উষ্ণতম: ইইউ জলবায়ু পর্যবেক্ষক

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
ব্রাসেলস:
 
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস বিশ্বব্যাপী রেকর্ড অনুযায়ী পঞ্চম উষ্ণতম মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই গোলার্ধে ভিন্নধর্মী তাপমাত্রার চরম পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-অর্থায়িত কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (C3S)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা ছিল ১২.৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রেকর্ড উষ্ণতম জানুয়ারি ২০২৫-এর তুলনায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ফলে এটি বিশ্বে পঞ্চম উষ্ণতম জানুয়ারি হিসেবে স্থান পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভিন্নধর্মী চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা গেছে। উত্তর গোলার্ধে, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানে। এর ফলে ইউরোপে ২০১০ সালের পর সবচেয়ে শীতল জানুয়ারি রেকর্ড হয়েছে, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ২.৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ অস্ট্রেলিয়া ও প্যাটাগোনিয়ায় ভয়াবহ দাবানলকে আরও তীব্র করেছে। একই সঙ্গে মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারী বৃষ্টিপাত মারাত্মক বন্যার সৃষ্টি করে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস-এর জলবায়ু বিষয়ক কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেন,“২০২৬ সালের জানুয়ারি আমাদের স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে যে জলবায়ু ব্যবস্থা একই সময়ে এক অঞ্চলে তীব্র শীত এবং অন্য অঞ্চলে চরম তাপপ্রবাহ ঘটাতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, মানব কার্যকলাপ দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ক্রমবর্ধমান চরম পরিস্থিতির মোকাবিলায় সহনশীলতা জোরদার এবং দ্রুত অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছে, যাতে ভবিষ্যতের বাড়তি জলবায়ু ঝুঁকির জন্য সমাজ আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ অক্ষাংশ ৬০ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশ ৬০ ডিগ্রির মধ্যে গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ২০.৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জানুয়ারি মাসের জন্য রেকর্ড অনুযায়ী চতুর্থ সর্বোচ্চ। এটি জানুয়ারি ২০২৪-এর রেকর্ডের তুলনায় ০.২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

এছাড়া জানুয়ারিতে আর্কটিক সাগরবরফের বিস্তার গড়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কম ছিল, যা ওই মাসের জন্য তৃতীয় সর্বনিম্ন। অ্যান্টার্কটিক সাগরবরফের বিস্তার গড়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঢেউ বয়ে গেছে। শক্তিশালী আটলান্টিক ঝড়ে দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বন্যার কবলে পড়েছে, অন্যদিকে আর্কটিকের তীব্র শীত মধ্য ও উত্তর ইউরোপের কিছু অংশে আঘাত হেনেছে। এতে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।